1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও ডাকঘর সঞ্চয়: কোথায় কত মুনাফা ও কেমন ঝুঁকি - আজকের কাগজ
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বাবর আজমকে বিদেশে একাডেমিতে পাঠানোর পরামর্শ মোহাম্মদ ইউসুফের এনসিপির স্পোর্টস উইংয়ে যোগ দিচ্ছেন নাজমুল আবেদীন ও এম নাজমুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষায় চরম বিপর্যয়: শিক্ষকদের ফুল দিয়ে ছাত্রদলের অভিনব প্রতিবাদ মিরপুরে পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভ: সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফ্লোরিডায় বিধ্বস্ত ব্যক্তিগত বিমান: পাইলটের শেষ বার্তা ও মর্মান্তিক পরিণতি ১৪ বছর পর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ জয়পুরহাটের গৃহবধূর লক্ষ্মীপুরে বাসের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক অবরোধ হার্ভার্ডের লিড ফেলোশিপ ২০২৭–২৮: আবেদনের সুযোগ ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৯: তদন্তে নামল এনটিএসবি সিলেটে জন্মদিন উদযাপন করলেন তৌসিফ, সঙ্গী ছিলেন সাফা ও টয়া

সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও ডাকঘর সঞ্চয়: কোথায় কত মুনাফা ও কেমন ঝুঁকি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:১৬ এএম
শেয়ার করুন

শিল্পপতি ও বড় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। তাঁরা ব্যবসা সম্প্রসারণ, কারখানা স্থাপন কিংবা জমি কেনার মতো খাতে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রয়োজনে তাঁরা ব্যাংকঋণও নিতে পারেন। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারী, চাকরিজীবী কিংবা সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বিনিয়োগের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখা, নিয়মিত নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে অর্থ ব্যবহারের সুবিধা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য থাকে। প্রচলিত বিভিন্ন মাধ্যমে বিনিয়োগের পূর্বে মুনাফার হার, করের প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।

শেয়ারবাজার: লাভ আছে, আছে লোকসানের ঝুঁকিও

শেয়ারবাজার বা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে স্বল্প সময়ে ভালো মুনাফা করা সম্ভব হলেও এতে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকি থেকে যায়। বাজার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে এই খাতে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। যাঁরা বেশি ঝুঁকি নিতে পারেন, কেবল তাঁদের জন্যই পুঁজিবাজার উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।

সঞ্চয়পত্র: সরকারি নিশ্চয়তা ও মুনাফার হিসাব

যাঁরা ঝুঁকি এড়াতে চান, তাঁদের কাছে সঞ্চয়পত্র এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনিয়োগমাধ্যম। এর প্রধান আকর্ষণ হলো সরকারি নিশ্চয়তা–সংবলিত বিনিয়োগ এবং আগে থেকে নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র অন্যতম। তবে নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের সঞ্চয়পত্র সব নাগরিক কিনতে পারেন না।

২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কোন সঞ্চয়পত্র কেনা হচ্ছে, কত টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং কত সময় ধরে রাখা হচ্ছে—তার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত মুনাফা নির্ভর করে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সার্বিক মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তবে সঞ্চয়পত্রের অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা হলো এতে ব্যক্তির জন্য বিনিয়োগের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্দিষ্ট করা থাকে। ফলে কারও কাছে বড় অঙ্কের তহবিল থাকলেও তিনি চাইলেই পুরোটাই সঞ্চয়পত্রে খাটাতে পারেন না। যাঁদের মাসভিত্তিক বা নিয়মিত আয় প্রয়োজন, তাঁরা মুনাফা দেওয়ার ধরন বিবেচনা করে সঠিক সঞ্চয়পত্র বেছে নিতে পারেন। তবে জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলার দরকার হতে পারে—এমন অর্থ দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙলে নির্ধারিত মুনাফা পাওয়ার সুবিধা অনেকটাই কমে যায়।

যে সঞ্চয়পত্র সবাই কিনতে পারেন, তিন মাস পরপর মুনাফার টাকা তোলা যায়

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেশ সমাদৃত, কারণ এটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক কিনতে পারেন। এখান থেকে পাওয়া মুনাফা প্রতি তিন মাস পর পর তোলা যায়, যা অনেকের দৈনন্দিন সংসারের খরচে সহায়তা করে।

এফডিআর: জমা করা সহজ, ব্যাংকের তারল্য ও সুদের হার যাচাই করা জরুরি

ব্যাংকের স্থায়ী আমানত বা এফডিআর সাধারণ মানুষের আরেক পরিচিত ও সহজ বিনিয়োগ মাধ্যম। এককালীন টাকা নির্দিষ্ট মেয়াদে ব্যাংকে জমা রেখে সুনির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়। সাধারণত এক মাস, তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি মেয়াদের জন্য স্থায়ী আমানত খোলার সুযোগ রয়েছে।

ব্যাংকে এফডিআর করার বড় সুবিধা হলো আমানতের সময়সীমা ও সুদের শর্ত আগে থেকেই নিশ্চিতভাবে জানা থাকে। অনেক ব্যাংক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মোট জমার একটি নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুবিধা দেয়। এর ফলে কোনো জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে মূল আমানত না ভেঙে সেই ঋণ সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

বর্তমানে ব্যাংকভেদে আমানতের সুদের হারে বেশ পার্থক্য দেখা যায়। সাধারণত এক বছর বা তার চেয়ে বেশি মেয়াদের স্থায়ী আমানতে আমানতের অঙ্কভেদে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ব্যাংকে এই হার আরও কম বা বেশি হতে পারে।

শুধু বেশি সুদ দেওয়ার চমকপ্রদ ঘোষণা দেখেই ব্যাংক নির্বাচন করা মোটেও ঠিক নয়। আমানত রাখার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক অবস্থা, সুশাসনের চিত্র, তারল্য পরিস্থিতি, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ইতিহাস ও আমানত সুরক্ষার আইনগত নিয়ম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, ব্যাংকের সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা রাখলে তা যেকোনো মুহূর্তে তোলা সহজ হলেও এর সুদের হার স্থায়ী আমানতের চেয়ে বেশ কম থাকে। তাই জরুরি চলাচলের টাকা সঞ্চয়ী হিসাবে রেখে বাকি অর্থ অন্যান্য লাভজনক মাধ্যমে মেয়াদি বিনিয়োগ করা ভালো।

ডাকঘর সঞ্চয়: সুদের হার ও বিনিয়োগের নিয়মাবলি

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ডাকঘর সঞ্চয় কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে। সরকারি এই কর্মসূচিতে সাধারণ হিসাব এবং মেয়াদি হিসাব—এই দুই উপায়ে টাকা রাখার সুযোগ আছে। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের জন্য বর্তমানে নির্ধারণ করা সুদহার হলো ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের তিন বছর মেয়াদি হিসাবের ক্ষেত্রে সময় ও জমার ওপর ভিত্তি করে মুনাফা পাওয়ার হার ধাপে ধাপে বাড়ে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রথম বছর শেষে মুনাফার হার ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ আর তৃতীয় বছর শেষে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি টাকার বড় বিনিয়োগে এই হার যথাক্রমে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ, ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলে একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পেতে পারেন। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক ও সাধারণ ব্যাংক আমানতের সব মুনাফা থেকেই প্রযোজ্য উৎসে কর কেটে রাখা হয়।

জমি: সম্পদ, কিন্তু আটকে যেতে পারে টাকা

বাংলাদেশে একটি বড় অংশ মানুষের কাছে জমি কেনা একটি আকর্ষণীয় ও নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। জমির অবস্থান, আশপাশের যোগাযোগব্যবস্থা, সার্বিক নগরায়ণ ও দূরবর্তী সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে জমির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নতুন সড়ক বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে সংলগ্ন এলাকার জমির মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়।

তবে জমি কেনার মূল জটিলতা হলো এতে একসঙ্গে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ প্রয়োজন হয়। আবার হঠাৎ বিপদে পড়ে দ্রুত বিক্রি করে নগদ টাকা পাওয়া সহজ নয়। এছাড়া জমি কেনাবেচার সাথে রেজিস্ট্রেশন ফি, প্রযোজ্য কর, দালালি, জমি রক্ষণাবেক্ষণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মতো অতিরিক্ত খরচ যুক্ত থাকে।

জমি কেনার আগে আইনি ঝুঁকি এড়াতে মূল কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা অপরিহার্য। বিক্রয়যোগ্য জমির মূল দলিল, খতিয়ান, নামজারি পারচা, হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার রসিদ, জমির মূল দখল এবং জমিতে কোনো মামলা বা বিরোধ রয়েছে কি না—তা অভিজ্ঞ আইনজীবী ও ভূমি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভালোভাবে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।

সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড: বিকল্প ও নিরাপদ সুযোগ

সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের বিকল্প হিসেবে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে টাকা খাটানো যেতে পারে। সরকার নিজস্ব প্রয়োজনে এসব ঋণপত্রের মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তোলে। সাধারণত ট্রেজারি বিল হয় স্বল্পমেয়াদি এবং ট্রেজারি বন্ড দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃতির হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুসারে, বর্তমানে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোন ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে এসব বিল-বন্ড কিনতে পারবেন এবং এর ক্রয়-বিক্রয়ের নির্দিষ্ট শর্তাবলি কী, তা আগেই নিশ্চিত হয়ে নেওয়া দরকার।

বিনিয়োগের আগে প্রধান লক্ষণীয় বিষয়সমূহ

  • জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে এমন অর্থ দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখা একদমই অনুচিত। অন্তত কয়েক মাসের নিয়মিত সংসার খরচ ও জরুরি চিকিৎসাসংক্রান্ত তহবিল সহজ লভ্য অ্যাকাউন্টে জমা রাখা উচিত।
  • নিজের আর্থিক লক্ষ্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আপনি কি নিয়মিত মাসভিত্তিক আয় চান, নাকি দীর্ঘ মেয়াদে বড় আকারের মূলধন বাড়াতে চান—তার ওপর ভিত্তি করে সঠিক বিনিয়োগ মাধ্যম বাছাই করুন।
  • অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক মুনাফার আশায় যেকোনো জায়গায় ঝোঁপ বুঝে টাকা ঢালা ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাভাবিক বাজারের চেয়ে অনেক বেশি লাভের লোভ দেখানো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির ব্যাপারে সবসময় সতর্ক থাকা দরকার।
  • সব টাকা একক কোনো সঞ্চয় মাধ্যমে না রেখে ঝুঁকি ও সময় বিবেচনা করে বিভিন্ন খাতে ভাগ করে বিনিয়োগ করা উচিত। এতে একটি খাতে সমস্যা দেখা দিলেও পুরো সঞ্চয় হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
  • যেকোনো খাতে টাকা জমা রাখার আগেই উৎসে কর, বিভিন্ন ফি, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা তোলার নিয়ম এবং বিনিয়োগ করা অর্থের সরকারি সুরক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
এই বিভাগের আরো খবর