
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী গৃহবধূ রীতি খাতুন অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে সফলতার নজির গড়েছেন। সংসারের দায়িত্ব ও ১১ বছর বয়সী সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তিনি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখা থেকে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। বিয়ের পর সংসারজীবনে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গৃহবধূ রীতি খাতুনের (৩০)। বর্তমানে তাঁর ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে।
রীতি খাতুন ২০১০ সালে মোলামগাড়িহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছিলেন। এরপর বিয়ের পিঁড়িতে বসলে পড়াশোনায় দীর্ঘ বিরতি পড়ে। তবে দীর্ঘ ১৪ বছর পর স্বামীর অনুপ্রেরণায় ২০২৪ সালে তিনি পুনরায় কলেজে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সংসার সামলে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করা সহজ ছিল না। প্রতিকূলতা ও প্রতিবেশীদের নানা উপহাস উপেক্ষা করে লক্ষ্য অর্জনে অবিচল ছিলেন তিনি। তাই স্বামীর উৎসাহে এসএসসি পাস করার ১৪ বছর পর ভর্তি হন উচ্চমাধ্যমিকে। পরের বছর বিয়ে হওয়ায় ছেদ পড়ে পড়াশোনায়। সংসার সামলাতে গিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। এ জন্য নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। প্রতিবেশীদের উপহাসও শুনতে হয়েছে তাঁকে।
নিজের এই সাফল্যের পেছনে স্বামী আবদুল আলিম মণ্ডলের সহযোগিতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন রীতি। তিনি জানান, স্বামীর অনুপ্রেরণা না থাকলে এই বয়সে পড়াশোনায় ফেরা সম্ভব হতো না। এছাড়া পড়াশোনার প্রতিটি ধাপে তিনি পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকদের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছেন। রীতির স্বামী আবদুল আলিম জানান, স্ত্রীর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে নিজেই তাকে কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন এবং এই অসাধারণ ফলাফলে পুরো পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, স্ত্রীর এই ফলে পরিবারের সবাই খুব খুশি।
ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম রীতির এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সংসারের দায়িত্ব পালন করেও এমন ভালো ফলাফল করা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রীতির এই অধ্যবসায় ও সাফল্যের গল্প এলাকার অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।