
চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে এক কসাইকে হত্যার পর তার লাশ টুকরো করে তার প্রেমিকা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার দিনভর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদনগর ও লোহারপুল এলাকার খাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে খুন হওয়া আনিসের লাশের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমীরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় সুফিয়া নামের ওই নারী, তার ভাই মুছা ও মেয়ে জামাইকে শহীদনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার বিকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন মোড় সংলগ্ন শহীদনগর এলাকার দুটি স্থান থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করে।
পুলিশের ফরেনসিক দল হাতের আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। জানা যায়, ওই হাত-পা আনিস নামে এক ব্যক্তির যার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়।
তদন্তে জানা যায়, আনিস অক্সিজেন এলাকায় কসাইয়ের কাজ করতেন। গ্রেপ্তার সুফিয়ার বাড়িও রাউজানে। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।পুলিশ তদন্তে নেমে নগরীর শহীদ নগরের বাসা থেকে সুফিয়াকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারে।
উপ-কমিশনার আমীরুল ইসলাম বলেন, “আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়েসী সুফিয়া ও আনিসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়।”
জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া পুলিশকে বলেছেন, সম্প্রতি তাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছিলেন আনিস। এর জেরে তিনি আনিসকে বাসায় ডেকে এনে ‘মাথায় আঘাত করে হত্যার পর’ শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করে শহীদনগর, লোহারপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেন।
পুলিশ শুক্রবার বিকালে লোহারপুল এলাকার একটি খাল থেকে আনিসের মাথার অংশ উদ্ধার করে।
উপ-কমিশনার আমীরুল ইসলাম বলেন, “সুফিয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা ওই ব্যক্তির লাশের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করেছি। তার ভাই এ ঘটনার সাথে যুক্ত থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ।”
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
Leave a Reply