
গত কয়েকদিনের ভারিবর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি হু হু করে বেড়েই চলছে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের পানি।
জেলার তিস্তা ও ধরলা পাড় ও এর আশেপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ডুবে গেছে ফসলি জমি। রাস্তা ঘাট প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এসব নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাগন।
কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, রৌমারী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ৭০টি চর-দ্বীপচর ডুবে যাওয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকার রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। চরের বাসিন্দারা নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে যাতায়াত করছেন। পানিবন্দি এলাকাগুলোতে গত চার দিন ধরে বিদ্যুৎ সম্পুর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ইতি মধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে ৪৫৩ হেক্টর আবাদি জমির ফসল। পানি বৃদ্ধির কারনে জেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন ও রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কয়েকটি স্থাপনা ও বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুরহালান এলাকার এরশাদুল জানান, এলাকার আশেপাশের জমি ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করেছি।
আজ শুক্রবার (২১জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য হতে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৫৫ সে.মি. ও ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ১৩ সে.মি. বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪ সে.মি. এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৮ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ৪৫৩ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত রয়েছে। এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
কুড়িগ্রাম পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আগামী ৪৮ ঘন্টা কুড়িগ্রামের নদ নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, বন্যা মোকাবেলায় ১৩ লাখ টাকা, ১৩ মেট্রিকটন চাল, ২৫০ বান্ডিল ঢেউটিন, নৌকা ও আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।
Leave a Reply