
কুমিল্লা জেলা ডিবি চান্দিনা থানা, সদর দক্ষিণ থানা, লালমাই থানা এবং লাকসাম থানা পুলিশের সমন্বিত টিম দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১১ মামলার আসামী নয়নসহ তার সহসহযোগী ৫ ডাকাত গ্রেফতার করে। পুলিশ এ সময ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ ২টি পিকআপ উদ্ধার করেছে।
গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হচ্ছে,
কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার বরকড়ই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে ১ মামলার আসামী মো:রায়হান(২০), তিতাস থানার নারান্দিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ১১ মামলার আসামী মোঃ নয়ন (৩৪), চান্দিনা থানার বরকড়ই ( নাথের বাড়ি)গ্রামের মৃত মনির হোসেনের ছেলে
মোঃ শাহাদাত হোসেন (২৪),চান্দিনা থানার দেওকামতা সুবিদপুর কাজী বাড়ির কাজী সিরাজের ছেলে মোঃ নাছির (২৫), ও চান্দিনা থানার সুরিখোলা চেয়ারম্যান বাড়ির মন্টু মিয়ার ছেলে ৫ মামলার আসামী মো: সজিব রানা(২৮)।
ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত জব্দকৃত আলামতের মধ্যে,একটি নীল রংয়ের রেজিঃ নম্বর বিহীন পিকআপ গাড়ী, একটি টোটো রিভাল বার, একটি বোল্ট কাটার দুইটি কাঠের বাটযুক্ত ছুরি, দুইটি লোহার চাপাতি,একটি স্টিলের চাপাতি, একটি হেক্কো ব্লেড কাটার , একটি নীল-হলুদ রংয়ের রেজিঃ নাম্বার বিহীন পিকআপ গাড়ী, লাকসাম থানা এলাকায় ডাকাতি হওয়া ৩টি গরু এবং ২টি গরুর বাছুর উদ্ধার করা হয়।
অতি সম্প্রতি কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন প্রান্তিক জায়গায় প্রায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এর প্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার সকল থানায় টহল ডিউটি ও অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র একত্রিত হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবাবধানে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এর নেতৃত্বে অপারেশনাল টিম ঐ ডাকাত চক্রের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। তথ্য প্রযুক্তি ও সোর্সের সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ২টি পিকআপে করে প্রায় ১৫/১৬ জনের ডাকাত দল চান্দিনা থানাধীন এলাকার বরকরই নাথের বাড়ী গ্রামে ডাকাতি সংঘটনের জন্য অবস্থান করতেছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ৪টায় চান্দিনা থানা এলাকার বরকরই নাথের বাড়ী গ্রামের দোল্লাই নবাবপুর টু রহিমানগর রম্ভার জনৈক দেলোয়ার হোসেনের ভাই ভাই মোটরসাইকেল শো-রুমের সামনে পৌছাইলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টাকালে নীল রংয়ের পিকআপের উপরে বসা ৪/৫ জন ডাকাত পিকআপ থেকে নেমে দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও পিকআপের ভিতরে থাকা ডাকাত দলের ৩ সদস্য এবং পিছন বসা ৫/৬ জনের মধ্যে ১ জনকে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে গ্রেফতার করা হয়। অপরদিকে ডাকাত দলের আরেকটি টিম হলুদ রংয়ের পিকআপটি নিয়ে ঘটনাস্থল হইতে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে, উক্ত হলুদ রংয়ের পিকআপে থাকা ডাকাতদেরকে আটকের লক্ষ্যে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এর নেতৃত্বে অপর ১টি টিম হলুদ রংয়ের পিকআপটিকে ধাওয়া করে। ডিবি পুলিশের ২টি টিম পিকআপটিকে লাকসাম রেল ক্রসিং এর সামনে আটক করার চেষ্টাকালে ডাকাত নয়নের উক্ত পিকআপটি উল্টাে দিকে ঘুরিয়ে পালিয়ে যায়। এই সময় ডাকাত নয়ন উক্ত পিকআপ দিয়ে ডিবি টিমের দুই জন সদস্যকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ডিবি টিমের ২ জন সদস্য লাফ দিয়ে পিকআপ এর সামনে থেকে সরে যেতে পারলেও সাসয়িক আঘাত প্রাপ্ত হয়। এই সময় ডাকাত নয়ন ও তার সহযোগীরা পিকআপটি নিয়ে সদর দক্ষিণ থানা এলাকার প্রবেশ করে।এ সময় ডিবির ২টি টিম ডাকাত নয়নকে ধাওয়া করতে থাকে। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম সমন্বয় করে অফিসার ইনচার্জ লাকসাম থানা, লালমাই থানা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার ডিউটিরত সকল মোবাইল পেট্রোল টিম লাকসাম, লালমাই এবং সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকা ঘিরে রাখে। প্রায় দেড় ঘন্টা সময় উক্ত পিকআপটিকে ডিবি পুলিশের ২টি টিম লাকসাম, লালমাই এবং সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকার ফিডার রুটে আটক করার জন্য দুঃসাহসিকভাবে ধাওয়া করতে থাকে। পথিমধ্যে ডাকাত নয়ন এর সাথে পিকআপের উপরে থাকা ৪/৫ জন ডাকাতদল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।পরে ডাকাত নয়ন ও তার সহযোগী পিকআপটি চালিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ডাকাত নয়ন ও তার সহযোগী উক্ত পিকআপটি নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের উল্টাে পাশে গাড়ি চালিয়ে সদর দক্ষিণ থানাধীন ফিরিঙ্গির হাট এলাকায় প্রবেশ করে। এই সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এবং ডিবি পুলিশের ২টি টিম ডাকাত নয়ন ও তার সহযোগীসহ উক্ত পিকআপটিকে ধাওয়া করে সদর দক্ষিণ থানাধীন ফিরিঙ্গির হাট, সুয়াগাজী এলাকায় গিয়ে আটককালে ডাকাত নয়ন ও তার সহযোগী পিকআপ হতে নেমে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট দৌঁড়ানোর পর ডাকাত নয়ন একটি পুকুরে লাফ দেয়। এই সময় ডিবি টিমের ৫ জন সদস্যও পুকুরে লাফ দিয়ে পুকুর থেকে ডাকাত নয়নকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় ডাকাত নয়নের সহযোগী ১ ডাকাত পালিয়ে যায়। পরে আটককৃত ডাকাতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চান্দিনা, দেবিদ্বার ও দাউদকান্দি এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকে।
গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা চলতি মাসে লাকসাম থানা এলাকায় মাদ্রাসা গরু ডাকাতি এবং চান্দিনা থানা এলাকায় গরু ডাকাতির ঘটনা বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করে।
Leave a Reply