
ভারতীয় কোস্ট গার্ড কর্তৃক বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা থেকে ২৯ জেলে-মাঝিসহ বাংলাদেশী একটি মাছ ধরার ট্রলার ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে বঙ্গোপসাগরে ঘন কোঁয়াশার পথ হারিয়ে ট্রলারটি ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগোনা উপকলীয় এলাকায় বাংলাদেশ জলসীমানায় অবস্থানকালীন সময়ে আটক করে নিয়ে যায়। ট্রলারটি হলো- আমানা গণি, যার ইঞ্জিন নং-১২২০ কে ০০৮৩৭৭ (বিএসটি-২৭৮)।
চট্টগ্রাম নগরের ফিশারীঘাটের এ ট্রলারের মালিক সৈয়দ নূর জানিয়েছেন, মহেশখালীর ধলঘাট এলাকা থেকে গত ১৩ নভেম্বর সকাল ১০টায় ট্রলারটি সাগরে মাছ ধরতে যায়। সেখানে দুইজন মাঝি ও চালকসহ ২৯ জন ছিলেন। ট্রলারের মাঝিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের হাতে আটকের কথা জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরে মুুখিকভাবে জানিয়েছি। সবশেষ খবর পেয়েছি, ট্রলার ও আটককৃতরা ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগোনা কোস্টাল থানা হেফাজতে রয়েছে।
তবে কী কারণে ট্রলার নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা কেন তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি ট্রলারের মালিকপক্ষ।
ভারতে আটক করে নিয়ে যাওয়া মাঝি হলেন-মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, তার ভাই আবু বক্কর, চালক ফেরদৌস, সায়েদ আলী, বখতিয়ার আলম, শহিদুল্লাহ, আবু ছৈয়দ নূরী, সাইফুল ইসলাম, তাহসীন, সাহাব উদ্দিন, তারেকুল ইসলাম, মিন্নাতু, মোহাম্মদ তারেক, ফুতু আলম, সাজ্জাদ, নেছার আহমদ,সালমান, জসিম উদ্দিন, কালু মিয়া, মিজান, আরাফাত, হারুন, মিঠু, হাসান, পারভেজ ও তৈহিদ। তাদেও সবার বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালীতে।
নেছার আহমদের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় সর্বশেষ স্বামীর সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন তারা ঘন কোয়াশায় পড়ে পথ ভুলে ট্রলার অজানা গন্তব্যেও দিকে যাচ্ছে। ভাগ্যে কি ঘটে জানে না। এরপর রাত ৯টায় ফোন দিলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি।
মিঠুর স্ত্রী ডলি আকতার বলেন, সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ খুব দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহন করুন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সমুদ্র মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুস ছাত্তারের সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply