
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বলদিয়াঘাট মহিলা দাখিল মাদরাসায় নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সুপারিনটেনডেন্টের অপসারণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।
গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় মাদরাসার সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিয়োগের নামে প্রতারণা, অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. তোজাম্মেল হক তাকে নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধাপে ধাপে প্রায় ১২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তখন মাদরাসার এমপিওভুক্তির বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে তার কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়। কিন্তু ২০২২ সালে মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর এবং ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
তিনি আরও বলেন, নিয়োগ বোর্ড বসার আগে সুপার তার কাছে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। অতিরিক্ত এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বাদ দিয়ে মো. সুজন নামের অন্য এক প্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়।
মিজানুর রহমানের বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৯ সালে আবাদি জমি বিক্রি করে ছেলের চাকরির আশায় সুপারকে টাকা দিয়েছিলাম। এখন বেশি টাকা নিয়ে অন্যজনকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং দুর্নীতিবাজ সুপারের অপসারণ চাই।
এ বিষয়ে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ তোজাম্মেল হক ১২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি সবার জানা এবং সেই টাকা মাদরাসার ফান্ডে জমা আছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি, বিধি মোতাবেক পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ১৮ জানুয়ারি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর অনুলিপি জেলা শিক্ষা অফিসারকেও পাঠানো হয়েছে।
সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল কবির জানান, ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীকে পাঁচ সদস্যের নিয়োগ বোর্ড সুপারিশ করেছে। এখন ম্যানেজিং কমিটিই চূড়ান্ত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবে। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগটি এখনো তার হাতে পৌঁছায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত স্থগিত করে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যোগ্য ও প্রকৃত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হোক।
Leave a Reply