1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলে যাচ্ছে রূপ - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে : প্রধানমন্ত্রী ডিএনসিসির সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন খেলাপির জামিনদার হলেও প্রার্থিতা বাতিল করবে ইসি শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই, দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ম্যারাডোনাকে জয় উৎস্বর্গ করে মেসি বললেন ‘ফাইনাল হবে সমানে সমান’ কুড়িগ্রামে নিজ ঘরে আগুন দিয়ে অস্ত্র হাতে যুবকের তাণ্ডব বেরোবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ পালিত ববি হলে শিবিরকর্মীর ওপর মব সৃষ্টি, ছাত্রদল সভাপতিসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ চালু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলে যাচ্ছে রূপ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ মে, ২০২৫ ২:২৫ পিএম
শেয়ার করুন

একসঙ্গে ৪১টি বহুতল ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের মধ্য দিয়ে একটি মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একাডেমিক ভবন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট দূর করতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ-১’ শীর্ষক এই কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছরের এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৮৪১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

এতে বেশ কিছু পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে প্রস্তাবিত ৪১টি বহুতল ভবনের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬টি আবাসিক হল, ৮টি একাডেমিক ভবন, আবাসিক হলগুলোতে হাউস টিউটরদের ৯টি আবাসিক ভবন, পুরনো ডাকসু ভবন ভেঙে ১২ তলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবন, ৬তলা মেডিক্যাল সেন্টার, রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের একাংশ ভেঙে একটি ২০ তলা ও একটি চারতলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং গ্যালারি ও ডরমেটরি নির্মাণসহ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উন্নয়ন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামোগত সংকটে ধুঁকতে থাকা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চিত্র বদলে যাবে। ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চূড়ান্ত সংশোধনী শেষে অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, একনেকের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী জুলাই থেকে কাজ শুরু হবে প্রকল্পের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

৮টি একাডেমিক ভবন : প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পশ্চিম ও উত্তর পাশে অবস্থিত ভবন ভেঙে একটি ১২ তলা ও একটি ৬ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। আইএসআরটি ও ফার্মেসি বিভাগের জন্য বর্তমান আইএসআরটি ভবন ভেঙে এবং মোকাররম হোসেন খন্দকার বিজ্ঞান ভবন ও আইএসআরটি ভবনের মধ্যবর্তী খালি জায়গায় একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ হবে। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নিজস্ব খালি জায়গায় একটি ৩ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চারুকলা অনুষদের অধীন ক্রাফট, স্কাল্পচার, গ্রাফিকস, সিরামিকস, ইতিহাস ভবন ও থিওরেটিক্যাল শিক্ষক লাউঞ্জ ভেঙে সেখানে একটি ৫ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের বর্তমান ১ তলা ভবন ভেঙে সেখানে একটি ১০ তলা ‘বীর উত্তম শহীদ খাজা নিজামুদ্দিন ভূঁঞা এমবিএ টাওয়ার’ নির্মিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রেস বিল্ডিং ও টিনশেডের নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি ভেঙে যথাক্রমে ১১ তলা ও ৫ তলা বিশিষ্ট দুটি ব্লকে প্রেস কাম একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

ছাত্রদের ১০টি আবাসিক ভবন : ছাত্রদের আবাসিক সংকট দূর করা লক্ষ্যে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের টিনশেড ভবন ভেঙে সেখানে ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১২ তলা ও ৮ তলা দুটি সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণ করা হবে। মাস্টার দা সূর্যসেন হলের উত্তর অংশ ভেঙে তাতে ১১০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১১ তলা একটি সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল প্রাঙ্গণের শহীদ আতাউর রহমান খান খাদিম ভবন ও ক্যাফেটেরিয়া ভেঙে সেখানে ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১৫ তলা ও ৬ তলা দুটি সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণ করা হবে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের টিনশেড ও একতলা মূল ভবন ভেঙে সেখানে ১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ১২ তলা ও ৬ তলা দুটি সম্প্রসারণ ভবন নির্মিত হবে। ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেলের বর্তমান বাংলো ভেঙে সেখানে ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১০ তলা, ৮ তলা ও ৫ তলা তিনটি সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হলেই আবাসিক শিক্ষকদের জন্য ২০টি ফ্ল্যাটসহ ১১ তলা একটি করে শিক্ষক কোয়ার্টার নির্মাণ করা হবে।

ছাত্রীদের ৬টি আবাসিক হল ভবন : ছাত্রীদেরও আবাসিক সংকট দূর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। শাহনেওয়াজ হোস্টেল ভেঙে আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ ১ হাজার ছাত্রীর জন্য একটি ১৫ তলা ছাত্রী হল নির্মাণ করা হবে। শামসুন নাহার হলের ভেতরে বিদ্যমান হাউস টিউটর কোয়ার্টার ও গ্যারেজ ভেঙে ৬০০ ছাত্রীর জন্য ১০ তলা ও ৬ তলা দুটি সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণ করা হবে। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান স্টাফ কোয়ার্টার ‘বি’ ও ‘ডি’ ভবন ভেঙে সেখানে ৫০০ ছাত্রীর জন্য ১১ তলা ও ৮ তলা দুটি ছাত্রী হল নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ভেতরে প্রভোস্ট বাংলো, হাউস টিউটর কোয়ার্টার ও ৩ তলা সিকদার মনোয়ারা ভবন ভেঙে ৫০০ ছাত্রীর জন্য ১০ তলা সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি হলে আবাসিক শিক্ষকদের জন্য একটি করে ২০টি ফ্ল্যাটসহ ১১ তলা শিক্ষক কোয়ার্টারও নির্মাণ করা হবে।

শিক্ষকদের আবাসিক ভবন : শিক্ষকদের জন্যও আলাদাভাবে এই প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মাস্টার দা সূর্যসেন হল এবং হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের বর্তমান প্রভোস্ট বাংলো ভেঙে সেখানে একটি ২ তলা বিশিষ্ট উপ-উপাচার্যের বাংলো নির্মাণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ফুলার রোড আবাসিক এলাকার ১২ ও ১৩ নম্বর ভবন ভেঙে সেখানে শিক্ষকদের জন্য ১৫ তলা বিশিষ্ট (মোট ১১২টি ফ্ল্যাট) একটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

১২ তলা ডাকসু ভবন : ডাকসু ভবন ভেঙে তার স্থানে ১২ তলা মাল্টিপারপাস ডাকসু ভবন নির্মাণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উত্তর-পশ্চিম অংশ ভেঙে সেখানে ২০ তলা ভবন এবং দক্ষিণ-পূর্ব অংশ ভেঙে সেখানে ৪ তলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। জিমনেসিয়ামের জন্য প্রি-ইঞ্জিনিয়ারড ভবনের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।

খেলার মাটের দৃশ্য বদলে যাবে : পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য গ্যালারি, খেলার মাঠ, বাস পার্কিং ও পরিচালকের অফিসসহ খেলোয়াড়দের ডরমিটরি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূল খেলার মাঠের আয়তন ১০ হাজার ৯০০ বর্গমিটার, গ্যালারি ২ হাজার ৪০ বর্গমিটার, বাস পার্কিং ২ হাজার ৯০০ বর্গমিটার এবং পরিচালকের অফিস ও ডরমিটরি মিলিয়ে ৪ হাজার ৩২ বর্গমিটার আয়তনের স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিববাড়ী আবাসিক এলাকার চতুর্থ শ্রেণির ভবনগুলো ভেঙে সেখানে ৬ তলা শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিক্যাল সেন্টার ভবন নির্মাণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান ১ তলা মসজিদুল জামিয়া ভবন ভেঙে তার স্থানে ৪ তলা মসজিদুল জামিয়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জলাধার সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। পাশাপাশি রোড নেটওয়ার্ক ও সার্ভিস লাইন স্থাপন, ২৪ হাজার ৮২০ মিটার দীর্ঘ ড্রেনেজ সিস্টেম নির্মাণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার (ওয়েস্ট বিনসহ) ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জগন্নাথ হলে বসানো হবে পাবলিক টয়লেট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জাবেদ আলম মৃধা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ৮৪১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। প্রকল্প চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন সংশোধন করে একনেকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। চলতি মাস বা জুনের মধ্যেই অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটি জুলাই মাস থেকে শুরু করা আশা রয়েছে। তিনি জানান, পরিকল্পনা কমিশন ও একনেক ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। তাই সবার সহযোগিতা করলে কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান আমাদের সময়কে বলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছি, যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ১১টি ধাপের মধ্যে ৯টি ধাপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আর ২টি ধাপ বাকি। প্রকল্পটি একনেক থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এটি আমাদের জন্য বড় একটি অর্জন হবে। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামী এক দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারবে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করছি এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে প্রতিটি দপ্তরে গিয়েছি।

এই বিভাগের আরো খবর