
কুড়িগ্রামে কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহে জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার মাত্রাতিরিক্ত চাপ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এরই মধ্যে জেলার সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোক, সর্দি-কাশি ও জ্বরের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য বিভাগকে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি গবেষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল ৫০ শতাংশ। আগামী দুই দিন এ ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
চিকিৎসক ও স্থানীয়রা জানান, গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা, বৃদ্ধরা এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে রোগীর দীর্ঘ লাইন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও চাপ বাড়ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। হেলথ ইমার্জেন্সি টিম গঠন করে প্রত্যন্ত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা বলেন, “অতিরিক্ত গরমে অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। বিশেষ করে শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন রয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে প্রচুর পানি পান করা, সোজাসুজি রোদের সংস্পর্শ এড়ানো এবং হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাপদাহ চলাকালীন সময় বিশেষ সতর্কতা না নিলে হিট স্ট্রোকসহ মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply