
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে পনেরটি গরু বোঝাই একটি ট্রাক ছিনতাই করেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৯/১০ জনকে আসমী করে গরু ব্যবসায়ী বাদি হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। গরু ব্যবসায়ী হচ্ছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ তাওসীফ। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গুলজার আলম।
থানায় দায়েরকৃত মামলায় বাদী তাওসীফ উল্লেখ করেন, গত ১০-১২ বছর যাবৎ তাদের গরু ব্যবসার ক্রয়-বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার সুলতানগঞ্জের মো. সেলিম মিয়া। শনিবার সেলিম মিয়ার মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলার বাইলপাড়া হাট থেকে ২৮ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা মূল্যের ১৫টি গরু ক্রয় করা হয়। বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ঠাকুরমারা গ্রামের মো. সেলিমের চালিত ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৫১৯৮) গরু বোঝাই করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানাধিন বিজিবি ক্যাম্প এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। রাত দেড়টার দিকে ট্রাকটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সোনাকাটিয়া এলাকায় পৌঁছে।
এ সময় মহাসড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৯-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লেজার লাইট দিয়ে ট্রাকটিকে থামানোর সংকেত দিলে চালক মো. সেলিম গরু বোঝাই ট্রাকটি থামায়। ট্রাকে মাদকদ্রব্য আছে বলে ট্রাক চালক, হেলপার ও গরু ক্রয়-বিক্রয় প্রতিনিধি সেলিমকে অতর্কিতভাবে কিল-ঘুষি মেরে অজ্ঞাতনামা ডাকাত চক্র তাদেরকে হাইয়েস গাড়িতে উঠায়। এরপর সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র তিনজনের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গামছা দিয়ে হাত-পা ও স্কসটেপ দিয়ে মুখ বেঁধে দেয়। এ সময় চক্রটি তিনজনের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও নগদ টাকা নিয়ে ছিনিয়ে নেয়।
অপর দিকে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের অপর দুই সদস্য গরু বোঝাই ট্রাকটি চালিয়ে অজ্ঞাতনামা স্থানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। ট্রাক চালক ও হেলপারসহ তিনজনকে বিভিন্নস্থানে ঘুরিয়ে রবিবার ভোর রাতে লালমাইয়ে সড়কের পাশের একটি ঝোপে ফেলে যায়। সকালে গরু ব্যবসায়ীর প্রতিনিধি মো. সেলিম মিয়া ব্যবসায়ী তাওসীফের চাচাতো ভাই ইমতিয়াজ মাহমুদকে বিষয়টি অবগত করেন। পরবর্তীতে তারা চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশকেও বিষয়টি জানায়। সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র ২৮ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা মূল্যের ১৫টি গরু, ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের ট্রাক, তিনজনের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও নগদ টাকাসহ মোট ৪৮ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩০ টাকার মালামাল লুণ্ঠন করে নিয়ে গেছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের প্রত্যেকে ডিবি পুলিশের পোশাক, জিন্স, টাউজার ও খাকি রঙের প্যান্ট পরিহিত ছিল। এরমধ্যে দুইজনের হাতে দুইটি পিস্তল ও একজনের হাতে একটি হ্যান্ডকাপ ছিল। তাদের বয়স ২৫-৩৫ বছর। ডাকাত দলের সদস্যরা কুমিল্লার আঞ্চলিক ভাষায় নিজেদের মধ্যে কথা বলা বলি করছে বলে তারা নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গরু বোঝাই ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ তাওসীফ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ডাকাতচক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রকে গ্রেফতার করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’