
মাদকের টাকা চেয়ে মায়ের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা। একপর্যায়ে মাকে মারধর শুরু করেন ছেলে। তাঁকে থামাতে এগিয়ে আসেন চাচি। অভিযোগ, তখনই লাঠির আঘাতে প্রাণ যায় ৪৫ বছর বয়সী সোনাভানুর। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শুক্রবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজা ফারুক হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারবান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোনাভানু ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের মৃত জয়নাল জোয়ারদারের ছেলে ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। দুই মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরার পর তিনি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের ভাষ্য, গত তিন-চার দিন ধরে তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল।
শুক্রবার দুপুরে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফারুকের সঙ্গে তাঁর মা ধলী বেওয়ার (৬০) কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাকে মারধর শুরু করেন তিনি। পরিস্থিতি থামাতে এগিয়ে যান চাচি সোনাভানু। অভিযোগ, এ সময় ফারুক লাঠি দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ফারুকের মা ধলী বেওয়া ও চাচা খলিল মিয়াসহ (৪৮) তিনজন আহত হয়েছেন। অপর আহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ফারুক আগে থেকেই মাদকাসক্ত ছিলেন। কয়েক দিন ধরে তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল। তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার আগেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।