
রাজধানী মিরপুরের আনাচে কানাচে অলিগলির আবাসিক ভবন গুলোতে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পজিশন ভাড়ানিয়ে গজিয়ে উঠেছে রেস্তোরাঁ। রংবেরঙের ডেকোরেশন তৈরি করে নামে বেনামে রেস্তোরাঁ মালিকার ব্যবসা পরিচালনা করছে বাণিজ্যিক ভাবে। আবার আবাসিক ভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির যে সকল সংযোগ নেয়া হয়েছে তা অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যবসায় ব্যবহার করছে রেস্তোরা মালিকরা। অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে দায়িত্ব থাকা তদারকি সংস্থার কর্মকর্তা ও ভবন মালিকরা আর এ খাত থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এর ফলে চরম ঝুকিতে রয়েছে মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলিতে থাকা একাধিক ভবন। তদারকি সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ এসব রেস্তোরাঁর ফলে যে কোনো সময়ে একটি দুর্ঘটনায় কেড়ে নিতে পারে আবারো বেইলি রোডের মত তাজা কমলমতি নিষ্পাপ প্রান। মিরপুরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১০, ১১, ১২, ১৩ নম্বর, পল্লবী, রূপনগর, শাহআলী, ভাষানটেক, কাফরুল, ঈদগাঁ মাঠ, চিড়িয়াখানা রোড, দুয়ারীপাড়া, ইস্টার্ন হাউজিং, লালমাটি, বাউনিয়াবাঁধ, দারুসালাম, মাজার রোড, মিরপুর লাভ রোড, এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য রেস্তোরাঁ। বিভিন্ন সড়কের অলিগলি,পাড়া মহল্লার যেখানে-সেখানে, যত্রতত্র এসব রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে জমজমাট ব্যবসা। এসব রেস্তোরাঁয় থাই গ্লাসের আদলে বাহারি লাইটের ঝলকানিতে আকৃষ্ট করে ক্রেতা ও কাস্টমারদের। রেস্তোরা গুলোতে লাইটের ঝলকানি আর মনোমুগ্ধ পরিবেশে ও সাজসজ্জা দেখে কাস্টমারও জমে বেশ। সূত্রে জানা যায়, ছোট-বড় মিলে রাজধানী ঢাকায় এখন এই রেস্তোরাঁর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারের বেশি। দুই সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে এ রকম রেস্তোরাঁ রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৮০০-এর বেশি। আর অধিকাংশ রেস্তোরাঁর কোনো সঠিক কাগজপত্র ও নেই অনুমোদন। উপেক্ষিত হচ্ছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি বহির্গমনের মতো বিষয়গুলো। এ সকল রেস্তোরা গুলো দেখভাল করার যেন কর্তৃপক্ষ কেউ নেই ! না কি দেখেও না দেখার ভান করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা ! এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের। সূত্রে জানা গেছে, হোটেল ও রেস্তোরাঁ বিধিমালা ২০১৬ অনুযায়ী নিবন্ধনের শর্তে বলা হয়েছে, হোটেল ও রেস্তোরাঁ নিবন্ধন পেতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, ভবনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত প্ল্যান জমা দিয়ে নিবন্ধন নিতে হয়। ভবনে রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিশেষ ধরনের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন করতে হয়। কারণ ধোঁয়া কোন দিক দিয়ে বের হবে এবং অগ্নিঝুঁকি মাথায় রাখতে হয়। নিতে হয় ফায়ার সেফটি প্ল্যানের অনুমোদন। এছাড়া সিটি করপোরেশনকে ব্যবসায়িক সনদ বা ট্রেড লাইসেন্স পেতে হলেও ভবন ব্যবহার অকুপেন্সি ও ভবন সরবরাহকৃত সব সেবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু রাজধানীতে রেস্তোরার এমন ডিজাইনের ভবন খুব কমসংখ্যক রয়েছে। রেস্টুরেন্টের কোনো রকম ডিজাইন ছাড়াই ভবন মালিকের কাছথেকে ভাড়া নিয়ে অনেক ভবনে রেস্তোরাঁ ব্যবসা বছরের পর বছর করে যাচ্ছে। অথচ এত দিনেও রাজউক তা দেখতে পায়নি !’ আর সেই সুজোগে রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে ইচ্ছামতো রেস্তোরাঁ ব্যবসা চালাচ্ছে অসাধু মালিকরা।সম্প্রতিক রাজধানী বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে আগুন লেগে ৪৬ জনের মৃত্যুর পর দেশব্যাপী- আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিকভাবে রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠার বিষয়টি আলোচনায় আসে। আগুনের ওই ঘটনার পর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে রোববার থেকে একযোগে অভিযানে নেমেছে পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও রাজউক।প্রশাসন বলছে, অবকাঠামোগত ত্রুটি, ভবন ব্যবহারে অনিয়ম ও যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা ঝুঁকিপূর্ণ রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালাবে পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও রাজউক। এছাড়া অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ রেস্তোরাঁ তৈরি এবং তাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার সহযোগী প্রশ্রয়দাতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সাজার আওতায় আনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
Leave a Reply