
মিরপুর থানা ছাত্রদলের কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছে ছাত্রলীগ সেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা, এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পদবঞ্চিত হওয়া মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতারা। তারা বলছে, কিভাবে ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা পুনর্বাসিত হচ্ছে এটা বোধগম্য নয়। স্বৈরচার আমলে বছরের পর বছর যারা ছাত্রদল করে হামলা, মামলা, জেল-জুলুম ও রাজপথের কঠিন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন সে সময়ের ত্যাগী ও পদবঞ্চিত নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে নবাগত হাইব্রিড অতীতে ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদেরকে মিরপুর থানা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে !
ত্যাগী নেতারা অভিযোগ তুলেছেন যে, নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট, আর্থিক লেনদেন বা প্রভাবে কারণে মিরপুর থানা ছাত্রদলের কমিটিতে অনুপ্রবেশকারীরা জায়গা পেয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তলে তলে শক্তিশালী হচ্ছে আওয়ামী লীগ আর দুর্বল হয়ে পড়ছে দুর্দিনের রাজপথে থাকা শক্তিশালি ছাত্রদল। অভিযোগ রয়েছে, মিরপুর থানা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম সিফাত অতিতে ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ সেচ্ছাসেবক লীগের কর্মসূচীতে তাকে মিছিলসহ নানা প্রোগ্রাম করতে দেখা গিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি রয়েছে তার। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তিনিও বদলে গেছেন ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলের নেতা। বিভিন্ন সময়ে তিনি ফেসবুকে আপলোড করেছেন তার এসব ছবি প্রতিবেদকের কাছে তা সংরক্ষিত রয়েছে।
জানাগেছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন বা ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি তুলেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের পদে ছিলেন আবার বিএনপির বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, এমন অনেকেই এই কমিটিতে আছেন। এদিকে দীর্ঘদিন ছাত্রদল করেও পদবঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক নেতা কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, কমিটিতে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক কাদের পছন্দে এ সকল কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, ছাত্র দলে কি ত্যাগী নেতা কার্মী কম পড়েছে যে ছাত্রলীগ সেবক লীগের কর্মীদের ভাড়া করে এনে ছাত্রদলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে আওয়ামী লীগ কর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে দলে এনে।
পদ বঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা বলেন, কোনো ছাত্রলীগ নিয়ে ছাত্রদল কমিটি গঠন হতে পারে না। কেন্দ্রীয় ও মহানগর পশ্চিমের নেতারা এমন কমিটির অনুমোদন কীভাবে দিল তা বোধগম্য নয়। যোগ্যদের নিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি করছ তার। কোনো বিতর্কিত লোক ছাত্রদলের কমিটিতে আমরা দেখতে চাই না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি না দিলে বড় কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম সিফাত “আজকের কাগজকে” বলেন, নবগঠিত কমিটির কেউ প্রকৃতপক্ষে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। কমিটি নিয়ে চলমান বিতর্ক পুরোটাই পরিকল্পিত। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সাথে মিছিল মিটিং এ অংশগ্রহণ করেও ছাত্রদলের পথ বাগিয়ে নিয়েছেন অর্থের বিনিময় এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান সিফাত। এ ঘটনায়
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি রবিন খানঁকে এই কমিটির বিষয়ে জানার জন্য মুঠো ফোনে ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতৃত্ব সংশ্লিষ্ট কমিটির বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে যা বড় ধরনে সাংগঠনিক কার্যক্রমে দুর্বলতা আসবে বলে মনে করেন অনেকে এর ফলে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের শঙ্কা থেকেই যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট।