
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীসহ চার নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশের অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর মামলার তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই নারী বাদী হয়ে আজিজুল হক, ওবায়দুল হক ও খোতেজা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় শাহজালাল মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল আউয়াল।
এ ছাড়া ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সিআর মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফুলবাড়ী থানায় নথিভুক্ত করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ তিন আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন।
অপরদিকে, শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসেন আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, ‘এসব ঘটনায় থানায় পৃথক চারটি মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য মামলায় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাগুলো তদন্তাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আসামিদের দায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।