
মোটামুটি ফলাফল নিয়ে শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। একসময় মনে হতো, বেশি সিজিপিএ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। তবে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে গবেষণায় একাগ্রতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের সম্ভাবনার স্বাক্ষর রেখেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস আল ইমরান। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নের স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।
নাফিস যুক্তরাষ্ট্রের Arkansas State বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি এবং কানাডার University of Windsor-এ গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স প্রোগ্রামে পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থায়নসহ ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের George Mason বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক তাঁকে সাক্ষাৎকারের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।
রেজাল্টের দুশ্চিন্তা একপাশে রেখে শুরু হয় নতুন এক যাত্রা। বিভিন্ন শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ, সিনিয়রদের পরামর্শ গ্রহণ এবং নিজের আগ্রহ থেকে গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। কনফারেন্স পেপার প্রকাশের মাধ্যমে গবেষণা জগতে তাঁর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু। পরবর্তীতে নিজের পছন্দের বিষয়ে থিসিস করার সুযোগ পান, যা তাঁর গবেষণার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন তিনি।
নিজের এই পথচলার গল্প রুয়েট রিপোর্টার্স ইউনিটিকে বলতে গিয়ে নাফিস জানান,”৩-১ সেমিস্টার পর্যন্ত আমার রেজাল্ট এভারেজ ছিল। ১৪ সিরিজের (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ) আরিফ ভাইয়ের সফলতা আমাকে বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করেন।এরপর আমি পেপারের জন্য অনেক স্যারের দ্বারস্থ হই এবং পূর্ণ মনোনিবেশ করি। আমার এই যাত্রায় সুপারভাইজার প্রফেসর ড.মো: আবু সাঈদ স্যারের আন্তরিক সহায়তা ও পেপারের গুরুত্ব নিয়ে পরামর্শ এবং আমার বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিন্টু মিয়া স্যারের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।”
উল্লেখ্য, উচ্চশিক্ষার জন্য নাফিসের সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব উইন্ডসর কানাডার অন্যতম পরিচিত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।
নাফিসের এই অর্জন রুয়েট জুড়ে একই সঙ্গে আনন্দ ও আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ অর্জন প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নগুলোর একটি। সেই স্বপ্নপূরণের পথে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন নাফিস আল ইমরান। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর এই অর্জন প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কেবল ফলাফল নয়, গবেষণায় সম্পৃক্ততা, অধ্যবসায়, পরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং সঠিক দিকনির্দেশনাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার প্রতি নিষ্ঠা ও ধারাবাহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিসরে নিজের অবস্থান তৈরি করার এই গল্প রুয়েটসহ দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।