
সম্প্রতি স্ত্রী-সন্তান হারানো নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামকে এক মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্টপ্রক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী।
আদেশের বিষয়টি সুলতানা আক্তার রুবী নিশ্চিত করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন সাদ্দাম। গত বছরের এপ্রিলে গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে ১১টি মামলায় যশোর কারাগারে আছেন।
এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত, অন্যগুলোয় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গত ২৩ জানুয়ারি দুপুরে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালীর (২২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেসময় মেঝেতে পাওয়া যায় তার ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ।
স্বজনদের ভাষ্যে, স্বর্ণালী প্রথমে সন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তার আত্মঘাতী হওয়ার কারণ নিয়ে দুরকম তথ্য পাওয়া যায়। কেউ কেউ দাবি করেন, সাদ্দাম জেলে থাকার কারণে অভাবের তাড়নায় তার স্ত্রী ছেলেকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। আবার কেউ দাবি করেন, সাদ্দাম পলাতক থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রী স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেছেন।
তবে স্ত্রী-সন্তানের এভাবে মৃত্যুর পরও সাদ্দাম কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পাননি। প্রশাসনযন্ত্রের জটিলতায় তিনি স্ত্রী-সন্তানের লাশের পাশে আসতে পারছেন না দেখে তার স্বজনরাই ওই দুই লাশ নিয়ে কারাফটকে যায়।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।
Leave a Reply