
ইন্দোনেশিয়ার সরকার দেশটিতে হজের দীর্ঘস্থায়ী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটাতে একটি বিশেষ জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার এই দেশটি থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে যান, যার সঙ্গে দেশটির মানুষের এক গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই জাদুঘরের মাধ্যমে হজের ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাষ্ট্র গঠনে হজযাত্রীদের বিশেষ অবদান ও স্মৃতি তুলে ধরা হবে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হজযাত্রী পাঠায় পবিত্র হজ পালনের জন্য।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের কার্যক্রম গতিশীল করতে গত ২২ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী ফাদলি জনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির উপ-হজমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমাঞ্জুনতাক। বৈঠকে দুই মন্ত্রণালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দাহনিল আনজার সিমাঞ্জুনতাক এক বিবৃতিতে জানান, ইন্দোনেশিয়ার হজযাত্রার ইতিহাস কেবল পবিত্র তীর্থযাত্রায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রাম, জ্ঞান আদান-প্রদান এবং আলেম ও শিক্ষার্থীদের অবিস্মরণীয় অবদান জড়িয়ে আছে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে উপ-হজমন্ত্রী বলেন, ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসের বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে হজ স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।
দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের নেপথ্যে থাকা হোসে তজোক্রোআমিনোতো, হাসিম আশআরি ও আহমদ দাহলানের মতো জাতীয় বীরদের অবদান এই জাদুঘরে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হবে।
১৯৪৫ সালে স্বাধীনতা অর্জনের আগের ঔপনিবেশিক শাসনের সময় ডাচ শাসকরা দেশটির বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে গিয়েছিল, যার অনেকগুলোই বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। সরকার এখন সেইসব ঐতিহাসিক উপাদান ফিরিয়ে এনে সংরক্ষণের প্রক্রিয়া জোরদার করতে চায়। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে শুরু হওয়া ডাচ শাসনামলে দেশটি থেকে বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে যাওয়া হয়।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত জাদুঘরে বিভিন্ন সময়ের হজযাত্রার বিবরণসংবলিত আর্কাইভ, দুর্লভ ছবি, ভ্রমণ নথি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন যুগে ইন্দোনেশীয় মুসলমানদের জীবনযাত্রার ধারাও এখানে ফুটে উঠবে। এটি কেবল নিদর্শন সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং শিক্ষা ও গবেষণার একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। জাদুঘরটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যেখানে দর্শনার্থীরা ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কিত দেশের গৌরবময় অতীত সম্পর্কে জানতে পারবেন।