1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
নিম্নবিত্তের পাতে অধরা মাছ, দামের চাপে আমিষের জোগান নিয়ে শঙ্কা - আজকের কাগজ
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মহাবিপন্ন তালিকায় চালমুগরা: বন থেকে কেন হারিয়ে যাচ্ছে গাছটি? হজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে জাদুঘর নির্মাণ করবে ইন্দোনেশিয়া নিম্নবিত্তের পাতে অধরা মাছ, দামের চাপে আমিষের জোগান নিয়ে শঙ্কা আজ ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন: বর্ণিল পথচলার গল্প দুই মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের সর্বোচ্চ দাম কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে প্রাণহানি: কেন বাড়ছে ঝুঁকি? গোল নিয়ে বিতর্কে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ৯৮২তম গোলের আশা সরাইলের ঘটনায় মামলা হলে নিজেকে প্রধান অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি করার চ্যালেঞ্জ জানালেন রুমিন ফারহানা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার সমর্থন করে বাংলাদেশ বিএনপির নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকলে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিম্নবিত্তের পাতে অধরা মাছ, দামের চাপে আমিষের জোগান নিয়ে শঙ্কা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪১ এএম
শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের জেলা পর্যায় পর্যন্ত নিত্যপণ্যের দামের উর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আমিষের প্রধান উৎস পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রোটিনের জোগান নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্রেতাই এখন বাধ্য হয়ে মাছ কেনা কমিয়ে দিয়েছেন কিংবা আধা কেজি কাটা মাছ কিনে কোনোমতে হিসাব মেলাতে চেষ্টা করছেন। এক কেজি মাছের জায়গায় আধা কেজি কিংবা গোটা তেলাপিয়ার বদলে কাটা পাঙাশের চাকা কিনে বাড়ি ফেরা এই মানুষগুলোর গল্পই এখন বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের বাস্তব রূপ। তেলাপিয়ার ক্ষেত্রে দামের জন্য অপেক্ষা করতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোট তেলাপিয়ার দাম যখন কম থাকে, তখন কিনি। দাম বাড়ায় সেই আশ্রয়ও এখন তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে, দাম বাড়লেও মাছ কেনা পুরোপুরি বন্ধ করার সুযোগ নেই তার।

বাজারে বর্তমানে আকারভেদে পাঙাশ মাছ কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে তেলাপিয়ার দাম আরও চড়া; মাঝারি আকারের তেলাপিয়া ২২০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের বড় তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও এই মাছগুলোর দাম ছিল বর্তমানের চেয়ে অনেক কম। ২০২২ সালেও প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৪০ টাকার আশেপাশে পাওয়া যেত, যা এখন বেড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রোটিনের শেষ ভরসা হিসেবে পরিচিত এই দুই চাষের মাছও এখন বাজারে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৫৭ শতাংশ। অথচ কয়েক বছর আগে ছোট ও মাঝারি আকারের পাঙাশ কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় কেনা যেত।

মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা এখন দিশেহারা। রামপুরা এলাকার কাঠমিস্ত্রি এরশাদ আলী জানান, রুই-কাতলা বা অন্য মাছ কেনার সামর্থ্য অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। পাঙাশ ও তেলাপিয়াই ছিল শেষ ভরসা, কিন্তু সেগুলোর দামও আকাশচুম্বী হওয়ায় পরিবার নিয়ে মাছের পাতে মাছ তুলে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাটা পাঙাশ বা ছোট তেলাপিয়া খোঁজা ছাড়া এখন তার আর অন্য কোনো উপায় নেই। ‘রুই-কাতলা না হয় বাদই দিলাম, পাঙাশ-তেলাপিয়া কিনে যে পেট ভরাব— সে উপায়ও আর রইল না’।

একই পরিস্থিতি মালিবাগ এলাকার পোশাক শ্রমিক দুলু মিয়ার। তিনি জানান, মাছ না কিনলে চলে না বলেই সপ্তাহে এক-দুই দিন কোনোমতে দামি মাছ কেনেন, তবে আগে যে পরিমাণ কিনতেন তা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাড্ডা বাজারের বিক্রেতা আমিনুল ইসলামের মতে, দাম বাড়ায় তাদের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ক্রেতারা বাজারে এসে দাম শুনে আগের চেয়ে অনেক কম মাছ কিনছেন, ফলে ব্যবসায়ীদের অবস্থাও শোচনীয়। রাজধানীর বাজারে দাঁড়িয়ে এভাবেই নিজের ক্ষোভ আর অসহায়ত্ব প্রকাশ করছিলেন এক পোশাক শ্রমিক। পরিবারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিবারে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী আছে, তাই মাছ না কিনলে চলে না। এদিকে, বাজারে ক্রেতারা যেমন দাম নিয়ে চাপে আছেন, বিক্রেতারাও তার প্রভাব টের পাচ্ছেন বিক্রিতে। এর ফল ভোগ করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই।

এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত উৎপাদন ও সরবরাহ খাতের ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা আবুল কালাম জানান, মাছের খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাষিদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম। মাছ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাকের ভাড়া আগে ১৫-১৬ হাজার টাকা থাকলেও এখন তা বেড়ে ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হয়েছে। এর ওপর রয়েছে লাইনম্যানসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত চাঁদা ও খরচের চাপ। দুই মাছ মিলিয়ে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫৯ হাজার টনে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাষের মাছের একটি বিশাল অংশের জোগান আসে পাঙাশ ও তেলাপিয়া থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার টন পাঙাশ এবং ৩ লাখ ৫৪ হাজার টন তেলাপিয়া উৎপাদিত হয়েছে। ময়মনসিংহের মতো জেলাগুলো মাছ উৎপাদনে শীর্ষস্থানে থাকলেও বাজারের খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ধাপের খরচ পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ময়মনসিংহ, যশোর, বগুড়া, রাজশাহী, কুমিল্লা ও আশপাশের জেলাগুলো এ খাতে সবচেয়ে এগিয়ে।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, আমিষের এই সহজলভ্য উৎসটি নাগালের বাইরে চলে গেলে সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। খাবারের দাম কমানোর জন্য গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইনের অসাধু চাঁদাবাজি ও পরিবহন খরচ কমানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

চাষির পুকুর থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতার রান্নাঘর পর্যন্ত এই মাছের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রান্তিক মানুষ এখন আমিষের তালিকায় ব্যাপক ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে। দাম কমানোর মতো কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ না নেওয়া হলে সাধারণের পাত থেকে এই প্রোটিন চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরো খবর