
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গ নিয়ে তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৮৮ জন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে, হাম উপসর্গ দেখা গেছে এক হাজার ১৫৯ শিশুর মধ্যে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে সারাদেশে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৫ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা তিন হাজার ৮০৫ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৪ হাজার ১০৬টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুটি শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে এক একটি হামে মারা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৩৮ ও এর উপসর্গ নিয়ে ১৮৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে (৫৮১ জন)। এরপরই রয়েছে রাজশাহী (১৯২ জন) ও চট্টগ্রাম (১৬২ জন) ।
গত ২৪ ঘণ্টার বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের তালিকায় দেখা গেছে- বরিশালে ১০০, চট্টগ্রামে ১৬২, ঢাকা ৫৮১, খুলনা ৭১, ময়মনসিংহ ১০, রাজশাহী ১৯৭, রংপুর ৯ এবং সিলেটে ২৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন জানিয়েছেন, দেশে হামের পরিস্থিতি এখন ‘মহামারী’ আকার ধারন করেছে। এই সঙ্কট মোকাবিলায় অবিলম্বে দেশজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, হামের বর্তমান পরিস্থিতি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সঙ্কট। এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিদ্যমান দুর্বলতা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড়ো ধরনের ঘাটতিকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
অপরদিকে, একইদিন এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত দুটি সরকার সময়মতো হামের টিকা না দিয়ে ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ করেছে।
সারাদেশে হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর গাফিলতিকে দায়ি করে তারেক রহমান বলেন, সময়মতো শিশুদের হামের টিকা না দেওয়া একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। সেই অবহেলার মাশুল এখন দেশবাসীকে দিতে হচ্ছে। তবে আমাদের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সঙ্কট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
Leave a Reply