
আদালতের নির্দেশে এবং হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে দীর্ঘ ১৮ মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে চাটখিল উপজেলার যুবক ইমতিয়াজের মরদেহ।
আজ বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে চাটখিল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দশানী টবগা গ্রাম থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।নিহত ইমতিয়াজ ওই গ্রামের (ওয়ালি মিয়া বেপারী বাড়ি) হাবিবুর রহমানের ছেলে।তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৮ মাস আগে চাটখিল থানা লুটের ঘটনার সময় গুলিবৃদ্ধ হয়ে ইমতিয়াজ নিহত হন। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইমতিয়াজ নিহত হয়েছেন—এমন অভিযোগে গত ২২ মে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিম, সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ উল্ল্যাহসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তের প্রয়োজনেই আদালতের আদেশে আজ মরদেহ উত্তোলন করা হয়।এদিকে ইমতিয়াজকে ‘শহীদ’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) চাটখিল শাখা। সংগঠনের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ইমতিয়াজ কোনো আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন না। বরং থানা লুটের সময় লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহারের অসাবধানতায় আত্মঘাতী বুলেটে তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি তারা লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। ছাত্র নেতাদের দাবি, ইমতিয়াজ প্রকৃত আন্দোলনকারী না হয়েও শহীদের গেজেটভুক্ত হয়ে সরকারি অনুদান নিয়েছে।আজ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কড়া নিরাপত্তায় মরদেহটি কবর থেকে তোলার পর সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply