
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তারাবির নামাজ শেষে এক মসজিদের ইমামকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত ইমামকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত প্রায় ১০টার দিকে চরকিং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরবগুলা গ্রামের হাজী রগবত আলী জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইমাম রবিয়ল হোসেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে শাপলা প্রতীকের এক প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন রবিয়ল হোসেন। প্রার্থীর বিজয়ের জন্য তিনি দুই খতম কোরআন মানত করেন বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের কিছু সমর্থকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর আগে কয়েক দফা তাকে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করা হয়েছিল।
ঘটনার দিন তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে। পরিস্থিতি বুঝে তিনি মোটরসাইকেল রেখে দৌড়ে পুনরায় মসজিদে আশ্রয় নেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ইমামের কক্ষের দরজা ভেঙে তাকে টেনে বাইরে এনে মারধর করে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ
ভুক্তভোগীর পিতা মোহাম্মদ হোসেন দাবি করেন, রুবেল, বাবুল, ওসমান, সুমন, মিরাজ, আকরাম, শাখাওয়াত, শাহারাজ ও আশরাফসহ কয়েকজন তার ছেলের ওপর হামলা চালায়। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মসজিদ থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল এবং মসজিদের কিছু অর্থও নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি প্রশাসনের কাছে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, আহতের পিঠ, পায়ের গোড়ালি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।
আহত ইমামকে দেখতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, নির্বাচনের পর একটি পক্ষ এলাকায় সহিংস পরিবেশ তৈরি করছে। তিনি ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, তিনি আহত ইমামকে হাসপাতালে দেখে এসেছেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রুবেলকে ইতোমধ্যে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
হাতিয়া থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply