
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে করলা চুরির অভিযোগ তুলে এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর করা হচ্ছে—যা নতুন করে ‘গণবিচার’ সংস্কৃতির ভয়াবহতা সামনে নিয়ে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বংশিপাড়া এলাকায়। ঘটনার পরদিন বুধবার রাতে ভুক্তভোগী নারী রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। মামলায় স্থানীয় কৃষক ফরহাদ হোসেনসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করলা খেত থেকে সবজি তোলার সময় ওই নারীকে ‘হাতেনাতে’ আটক করা হয়। পরে তাকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে সেখানে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং আশপাশের লোকজন জড়ো করে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে তার স্বামীকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয় এবং তাকে দিয়ে ‘বিচার’ করার নামে স্ত্রীকে মারধর করতে বাধ্য করা হয়।
নারীর স্বামী বদিউজ্জামান বলেন, “আমাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়। গিয়ে দেখি, আমার স্ত্রীকে গাছে বেঁধে মারধর করা হচ্ছে। আমাকে বলা হয়, ‘তুই তোর বউকে মার।’ আমি না করলে আমাকেও মারধর করা হয়। পরে নিরুপায় হয়ে আমাকে মারতে বাধ্য করা হয়।”
অভিযুক্ত কৃষক ফরহাদ হোসেন দাবি করেন,
“ওই নারী নিয়মিত চুরি করে। সেদিন আমার খেত থেকে করলা তোলার সময় তাকে ধরা হয়। পরে তার স্বামীকে ডেকে এনে বলা হয়, নিজের মতো করে বিষয়টা মিটিয়ে নিতে।”
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী জানান,
“ঘটনায় সাতজনের নামে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেওয়ার কথা। কিন্তু তার পরিবর্তে প্রকাশ্যে বেঁধে নির্যাতন করা স্পষ্টতই দণ্ডনীয় অপরাধ।
এই ঘটনা শুধু একটি নির্যাতনের গল্প নয়—এটি গ্রামাঞ্চলে বেড়ে ওঠা ‘গণবিচার’ প্রবণতার এক ভয়াবহ উদাহরণ। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই সংস্কৃতি থামানো না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি করলা চুরির অভিযোগ—আর তার শাস্তি গাছে বেঁধে নির্যাতন!
প্রশ্ন উঠছে, এটি কি ন্যায়বিচার, নাকি সভ্যতার মুখে চপেটাঘাত?
Leave a Reply