
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হঠাৎ করেই লোকালয়ে নেমেছে শিয়ালের তাণ্ডব। এক সকালেই একই এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় শিয়ালের হামলায় আহত হয়েছেন দুই নারী। তাদের মধ্যে রোকেয়া খাতুন (৭০) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর আহত চন্দনা রানী (৩৯) প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়ে বাড়ি ফিরলেও পুরো এলাকায় এখন বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা এলাকায় এ দুটি ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ির পাশের সড়কে হাঁটতে বের হয়েছিলেন চন্দ্রখানা পাঠানটারী এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া খাতুন। হঠাৎ একটি শিয়াল তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুখমণ্ডল, দুই হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কামড়ে গুরুতর জখম করে তাকে। তার আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে শিয়ালটিকে ধাওয়া করে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
গুরুতর আহত রোকেয়া খাতুনকে প্রথমে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর কিছু সময় পর একই ইউনিয়নের চন্দ্রখানা এলাকার আরেক বাসিন্দা চন্দনা রানী বাড়ির হাঁসকে খাবার দিতে গেলে আরেকটি শিয়াল তার ওপর আক্রমণ চালায়। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়।
চন্দনা রানীর স্বামী সন্তোষ চন্দ্র রায় জানান, দ্রুত তাকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আনিছুর রহমান বলেন, শিয়ালের আক্রমণে আহত দুই নারীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত রোকেয়া খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্য আহত নারীকে চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
একই এলাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শিয়ালের হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর বিচরণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়রা বন্যপ্রাণীর উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, জনবসতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।