
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার কোনো চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে নিখোঁজদের হিসাব। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা মিলিয়ে অন্তত ১৪৬৮ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের শত শত নাগরিক রয়েছেন।
দুর্যোগের পরপরই নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে একাধিক হিসাব সামনে আসে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য যুক্ত হওয়া, মৃতদেহ শনাক্তকরণ এবং একই ব্যক্তির একাধিকবার তালিকাভুক্ত হওয়ার মতো কারণে সংখ্যায় পরিবর্তন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নেপালে নিখোঁজ ৯১০
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সর্বশেষ হিসাবে, দেশটিতে ৯১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, দেশি ও বিদেশি পর্যটক মিলিয়ে ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, সীমান্তের তিব্বত অংশে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে এসব বিদেশি নাগরিক কোন কোন দেশের, সেই বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বেইজিং।
কোন দেশের কত নাগরিক নিখোঁজ
নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতের নাগরিক। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৭৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
চীনা নাগরিকদের সংখ্যা নিয়েও ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নেপাল পর্যটন বোর্ড ২৪ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, নেপালে প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এই সংখ্যা তিব্বতের নিজস্ব অংশে নিখোঁজ ৫৫৮ জনের অতিরিক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন নাগরিক নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ৬৫।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন কানাডীয় নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেনের ৫৬ জন নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে কোনো ইউক্রেনীয় নাগরিক নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। জার্মানির আটজন এবং রাশিয়ার আটজন নিখোঁজ। রাশিয়ার আরও দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্পেনের তিন থেকে চারজন, বেলজিয়ামের তিনজন, হাঙ্গেরির এক থেকে তিনজন, পর্তুগালের তিনজন, নেদারল্যান্ডসের দুজন, ইতালির তিনজন, আয়ারল্যান্ডের দুজন, বেলারুশের একজন, ফিনল্যান্ডের একজন এবং লিথুয়ানিয়ার একজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। পর্তুগালের একজন ও ইতালির দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ড ও বুলগেরিয়ার একজন করে নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এশিয়া ও ওশেনিয়ার নাগরিকদের অবস্থাও উদ্বেগজনক
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, নেপালে থাকা তাঁদের ৫০ জনের বেশি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, নিখোঁজ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি রাসায়নিক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত নয়জন শ্রমিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তবে পর্যটন বোর্ড চারজনকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুরের নয়জন, নিউজিল্যান্ডের পাঁচজন এবং জাপানের পাঁচজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ছয়জন, লাটভিয়ার ছয়জন, কাজাখস্তানের দুজন, ইসরায়েলের একজন, ফিলিপাইনের একজন এবং সার্বিয়ার একজন নাগরিকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
তালিকা কেন বারবার বদলাচ্ছে
উদ্ধার অভিযান চলার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এমনটা অস্বাভাবিক নয়। একই ব্যক্তির নাম একাধিক তালিকায় চলে আসা, পরে তাঁকে উদ্ধার করা এবং মৃতদেহ পাওয়ার পর নিখোঁজ তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কারণে হিসাব সংশোধন করতে হচ্ছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ড বৃহস্পতিবার আরও আটজনকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। তাঁদের জাতীয়তা শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে দুর্গত এলাকায় নেপালের সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং পরিচয় শনাক্ত করাই এখন উদ্ধারকারীদের অন্যতম প্রধান কাজ।
সূত্র: এপি