
একটি লিফলেটই ভাগ্য পরিবর্তন।কুড়িয়ে পাওয়া একটি সংস্থার নির্দেশনামূলক লিফলেট উদ্যোমী ও আত্মবিশ্বাসী সানজিদাকে সফল নারী উদ্যোক্তা করেছে।ছদ্মনাম জুই।বাবা-মার সিদ্ধান্তে ১৪ বছরে বিয়ের পিড়িতে বসে সানজিদা ।পড়াশোনার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বেশি দূর এগোতে পারেনি।যৌথ পরিবারের অভাব ঘোচাঁতে সানজিদার ছিল অদম্য ইচ্ছে শক্তি। নিজ মেধা ও পরিশ্রমের বদৌলতে পরিবারের পরিবর্তন এবং নারীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।
তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার পৌর এলাকার ময়থাচালা মো.শামছুল আলমের মেয়ে সানজিদা আক্তার জুঁই।সানজিদার স্বামী প্রবাসী রাজু মিয়ার ইচ্ছায় অল্প পুঁজিতে হস্ত-কারুশিল্পের কাজ শুরু করে। সানজিদা রেইজ প্রকল্পের ১৬দিনের ব্যবসা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। শুরুতে কিছু টাকা লোকসান হয়।তারপরও থামেনি সে,দৃঢ়তা ও মনোবল নিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোমে ছোট পুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করে।এ শিল্পের কাঁচামাল কাপড় ও সূতা বাবার বন্ধু সহায়তায় ক্রয় করে। স্থানীয় বাসা ফাউন্ডেশনের রেইজ প্রকল্পের আওতায় স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে আজ সে স্বাবলম্বী।তার উদ্যোগে ২০২০সালে হস্ত-কারুশিল্পের কাজ শুরু হয়।শুরুতে পথটা এতো সহজ ছিল না।পরিবারে তার মা এবং সকলের সহযোগিতায় সানজিদাকে পিছনের দিকে তাকাতে হয়নি।এক বছর পর সানজিদার কোল জুড়ে আসে কন্যাশিশু।তার মায়ের উপহার একটি নকশীকাঁথা শিশুকে মুড়িয়ে সানজিদা আক্তার জুঁই নামে ফেসবুকে আইডিতে পোস্ট করলে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া পড়ে।মুহূর্তে নানান জায়গা থেকে অর্ডার আসতে থাকে।তার নিজস্ব রুহি’স মামস নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাছাড়া অনলাইন মাধ্যমেও অর্ডার হয়।এ কাজে অধিকাংশ নারী তার প্রতিবেশী। নিজেদের গৃহস্থালির ফাঁকে তারা এ কাজে সময় দিয়ে থাকে।বর্তমানে তার প্রায় ১৫০জন নারী উদ্যোক্তা রয়েছে।এ কাজে সানজিদার ছিল সাহস ও ইতিবাচক মনোভাব। নিজেকে নারী নয়,উদ্যোক্তা হিসেবে মনে করে।তার ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় আজ সে উত্তীর্ণ।সানজিদা এখন বেকার নারীদের কর্ম উদ্যোগী করার মডেল।তার এ প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর পৃষ্ঠপোষকতা করলে,অধিক নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।যা দেশের অর্থনীতি ও অগ্রগতিতে অগ্রনী ভুমিকা রাখবে।তার এ শিল্পের প্রসার করে মানসম্মত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। সানজিদার হস্ত-কারুশিল্প প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন বাসা ফাউন্ডেশন প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ডাক্তার সামিনা ইসলাম,রেইজ প্রকল্পের ফোকাস পারসন এসকেএম জহিরুল হোসেন ও পল্লী সহায়ক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিল্লাল হোসেন।পরিদর্শনকালে এ নারী উদ্যোক্তাকে তারা সবরকম সহযোগিতা আশ্বাস দেন।তার প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা জানান।সানজিদা আক্তার জুঁই এখন এলাকায় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।