
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের প্রতারণা ও চাপের মুখে ফেলে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করানোর চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে প্রতিবেদনটি পেশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং কম শিক্ষিত ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়।
তদন্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় স্থানীয় দালাল ও ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে এসব ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের রুশ ভাষায় লেখা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তিপত্রে সই করতে বাধ্য করা হয়, যার মর্মার্থ তারা বুঝতে অক্ষম ছিলেন। যখন তারা জানতে পারেন যে তাদের সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে হবে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের ওপর তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এমন প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে।
তালিকায় থাকা ২৯টি দেশ হলো— বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে।
প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার ভয়াবহ চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, কনকনে শীতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সেবা বিচ্ছিন্ন করা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে বলেন, জ্বালানি কেন্দ্রগুলো সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামো হওয়ায় এ ধরনের আক্রমণ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য। এর ফলে বরফশীতল অন্ধকারে সাধারণ মানুষ অমানবিক দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় বয়স্করা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি এবং হাসপাতালের লাইফ-সাপোর্টে থাকা রোগীরা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েন। ২০২৫-২৬ সালের শীতে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংস্থার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন এই প্রতিবেদন পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া তথ্য হিসেবে দাবি করেছে।