1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
নেতানিয়াহুর টিকে থাকার লড়াই: ইসরায়েলের ঝুলন্ত নির্বাচনের জটিল সমীকরণ - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মুসলিম-খ্রিস্টান সম্প্রীতি ছাড়া লেবাননের অস্তিত্ব রক্ষা অসম্ভব: আউন মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড: জুলাইয়ে হত্যাযজ্ঞ নেতানিয়াহুর টিকে থাকার লড়াই: ইসরায়েলের ঝুলন্ত নির্বাচনের জটিল সমীকরণ ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে নতুন বিতর্কে ইলহান ওমর তুরাগ নদীতে উদ্ধার বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত চারজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে ‘দিমাগি নকশাল’ নাসিরুদ্দিন শাহ ইসরায়েলি নির্বাচনে ঝুলে আছে ক্ষমতার ভাগ্য, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই কারো যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে নিজেকেই ব্রাজিলের প্রকৃত নেতা বললেন ফ্লাভিও ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতার আসন টলমল, সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা

নেতানিয়াহুর টিকে থাকার লড়াই: ইসরায়েলের ঝুলন্ত নির্বাচনের জটিল সমীকরণ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১:০৫ পিএম
শেয়ার করুন

তিন দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বহুবার রাজনীতির মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তিন দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বহুবার বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবারই তিনি প্রমাণ করেছেন, তাঁর রাজনৈতিক এপিটাফ বড্ড আগেই লিখে ফেলা হয়েছিল।

তবে গত রোববার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল তাঁর দীর্ঘ শাসনের স্থায়ী অবসান ঘটার একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

যদিও দেশটির জটিল ও নির্মম রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন।

এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু দেশটিতে কোনো স্পষ্ট বিজয়ীর নাম এখনো বেরিয়ে আসেনি। তবে ইসরায়েলের শীর্ষ পদের জন্য কোনো স্পষ্ট বিজয়ী পাওয়া যায়নি। কিন্তু ওয়াশিংটন তাঁর অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

এর ফলে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য অনিশ্চয়তার মুখে ঝুলে থাকতে পারে। এর ফলে কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাসের জন্য একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে, যেখানে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক টিকে থাকা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকছে।

নির্বাচনে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৬টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দলের অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের বিপরীতে এই জোটের ঝুলিতে যেতে পারে মাত্র ৫৩টি আসন। এর অর্থ হলো, ক্ষমতার লড়াইয়ে নেতানিয়াহু সরাসরি না জিতলেও পুরোপুরি হেরেও যাননি। এখন তাঁর মূল লক্ষ্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরকার গঠন করা থেকে বাধা দেওয়া, যাতে তিনি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন। যা বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে বেশ কম। সূত্রটি জানায়, নেতানিয়াহু সংখ্যালঘু একটি সরকার নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। কারণ, বিরোধীরা আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে তাঁকে ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে হবে। কারণ, আংশিকভাবে ইসরায়েলের সামরিক চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির সতর্ক করেছিলেন, এটি নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

কাগজে-কলমে নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরের দখলে ৬৭টি আসন রয়েছে। কিন্তু এই হিসাবটি আবার খণ্ডিত। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের দল ২১টি আসন নিশ্চিত করলেও তাঁর শিবিরের অন্যান্য ইহুদি দলগুলো মিলে মোট আসন ৪৮টিতে দাঁড়ায়। একটি শক্তিশালী সরকার গড়তে হলে তাদের রাআম এবং জয়েন্ট লিস্ট নামের দুটি আরব দলের সমর্থন প্রয়োজন। সব মিলিয়ে আরব দলগুলো এবার রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ইসরায়েলি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের এমন বিপুল অংশগ্রহণ মূলত বিগত চার বছর ধরে দায়িত্বে থাকা উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। উগ্র ইহুদিবাদী এবার নেতানিয়াহু জেতেননি। তবে সেই হিসাব মতাদর্শিক, জাতীয় ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে খণ্ডিত। ৬১ আসনের কোটায় পৌঁছাতে তাঁদের দুটি আরব দল রাআম এবং জয়েন্ট লিস্ট-এর সমর্থন লাগবে। গতকাল বুধবার বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান তাঁর সহযোগীদের আরব দলগুলোকে তাঁদের জোটে টানার আহ্বান জানান। কমিউনিস্ট হাদাশ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী তাল ও জাতীয়তাবাদী বালাদ গোষ্ঠী এই জোটে রয়েছে।

ইসরায়েলি রাজনীতিতে এখন আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসলামপন্থী দল রাআমের নেতা মানসুর আব্বাস ইতিপূর্বে সরকারে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। তবে আইজেনকটের ডানপন্থী মিত্র নাফতালি বেনেট এবং অবিগদোর লিবারম্যান আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকারের ঘোর বিরোধী। অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট রাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নেতানিয়াহুর পতনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর মূল কৌশল হলো ইহুদি ও আরব দলগুলোর এই সম্ভাব্য মেলবন্ধনকে অবৈধ ঘোষণা করা এবং বিরোধীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর এই দলের নেতা মানসুর আব্বাস প্রথম আরব রাজনীতিবিদ হিসেবে ইসরায়েলি সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর মেয়াদে উগ্রপন্থী ইহুদিরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এটি মূলত কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ঘুষ, হুমকি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভোট ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত কৌশলের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। যদিও সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি তাদের অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখছে, তবে নির্বাচনের দিনই এমন হাজারো অভিযোগ খারিজ করা হয়েছিল। সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যেকোনো উপায়ে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে তিনি নতুন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন। তিনিও হামেশা আরব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ২০২০ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হেরে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন, সেই একই কৌশল নিয়েছে নেতানিয়াহুর দল। সূত্রটি সিএনএনকে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ‘ইরানে হামলা চালানো বা তাঁর পক্ষ হয়ে ইসরায়েলি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিযুক্ত করাসহ যেকোনো উপায়ে এই সম্ভাবনাকে নিষ্ক্রিয় করার’ পরিকল্পনা করছেন। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করাসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় না ছাড়তে যা যা করা সম্ভব, তার সবই করবেন।

অনেকের ধারণা, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু ইরানে হামলার মতো কোনো কঠোর নিরাপত্তা সংকটের পথ বেছে নিতে পারেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও মার্কিন পক্ষ থেকে আগেভাগে এমন পদক্ষেপে বাধা ছিল। এদিকে আইডিএফের সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জনগণের স্পষ্ট রায় ছাড়া নেতানিয়াহু কেবল একজন কেয়ারটেকার প্রধানমন্ত্রী। তিনি পরিবর্তনের পক্ষে নিজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পরপরই সমর্থকদের উদ্দেশে আইজেনকট ঘোষণা করেন, জনগণ ‘পরিবর্তনকে বেছে নিয়েছে’। মঙ্গলবার রাতের ভাষণের পর হালনাগাদ ফলাফল জানার পর আইজেনকট প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি ‘ইসরায়েলে পরিবর্তন আনার’ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আছেন।

ভোট গণনার চূড়ান্ত পর্যায় এখন ডাবল-এনভেলপ ব্যালট নিয়ে চলছে। সেনাসদস্য, বন্দী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও বিদেশের কূটনীতিকদের ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ভোট গণনার ওপর ১০টি আসনের ভাগ্য ঝুলে আছে। এসব ব্যালট যাচাই শেষে চূড়ান্ত ফলাফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে পারে। এরপর শুরু হবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ভূমিকা। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের বাস্তবসম্মত পথ দেখাতে পারবেন, এমন প্রার্থীকেই তিনি মনোনীত করবেন।

মনোনীত প্রার্থী ২৮ দিন সময় পাবেন মন্ত্রিসভা, বাজেট ও নীতি নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করতে। প্রয়োজনে এই সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হলে অন্য প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হবে। আর শেষ পর্যন্ত যদি নেসেট কোনো সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরায়েলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নতুন নির্বাচনের পথে যদি দেশ যাত্রা করে, তবে নেতানিয়াহু মাসের পর মাস অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বহাল থাকার সহজাত সুবিধা ভোগ করবেন। ফলে পুরো পরিস্থিতি এখন চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর