
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা দুই দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকে মিরপুর-১০ ও এর আশপাশের এলাকাগুলো পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে। তাঁরা যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি আছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম আজ সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, পুলিশের বিভিন্ন টিম মাঠে সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। গতকাল রোববারের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পরে শ্রমিকেরাও বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
মহিদুল ইসলাম আরও জানান, গতকাল বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ আটক-গ্রেপ্তার ৪৯ জন।
সোমবার এখন পর্যন্ত নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া না গেলেও, যারা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বিক্ষোভে কেবল শ্রমিকরাই নয়, অন্য অপরাধীরাও যুক্ত থাকতে পারে। এসব ঘটনার পেছনে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট বা অরাজকতা সৃষ্টির কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল আটটার দিকে বেশ কিছু কারখানার শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস, লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে। পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ওইদিন মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়। এর আগে শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। সে সময় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ওই এলাকার যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার সকালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, মিরপুর-১০ ও এর আশপাশের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন এবং এলাকাটিতে কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকায় জনজীবন স্বাভাবিক গতি ফিরে পেয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকালের ঘটনায় পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার দায়ে একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে অতীতে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছিল। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন মজুরি বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানোর কথা জানিয়ে ‘ফেসবুকে পোস্ট’, আটক ১। পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার।