
দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধ আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তেহরান। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নির্ধারিত হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচনের পরই যুদ্ধ শেষ হবে, কারণ ইরান আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।’
যদিও এর আগে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ পর্যন্তও চলতে পারে এই যুদ্ধ।
ট্রাম্প ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে ভূগর্ভস্থ দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স থাকা শক্তিশালী স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলারও হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সেখানে ‘সামান্য তৎপরতা’ দেখা যাচ্ছে এবং ইরানকে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, বুধবার গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজের কাছে তারা ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেয়। পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল আরও ব্যাহত হয়েছে।
একই সময়ে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি সামরিক সূত্রের দাবি, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর মোকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালাচ্ছে। তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণে আরও প্রভাব বিস্তারের দিকে এগোচ্ছে।
জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরে ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলায় সৌদির চারটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন।