
চীনের হেনান প্রদেশের জিয়াওজুও শহরে অবস্থিত একটি গরুর মাংসের হটপট রেস্তোরাঁর চেইন পরিচালনা করেন মা ইয়ানলি।
তীব্র শীত, বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়ায় স্কুটারে যাতায়াতকারী কর্মীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি তিনি খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেন। প্রতিষ্ঠানের এই কর্মীদের কষ্টের কথা ভেবে তিনি তাদের বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দেওয়ার অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিটি গাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ চীনা ইউয়ান বা প্রায় ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মা ইয়ানলি গাড়িগুলো কেনার দুই সপ্তাহ পরই তা কর্মীদের হাতে তুলে দেন।
গাড়ি বিতরণের দিন গত ২৪ সেপ্টেম্বর মা ইয়ানলি কর্মীদের জানান, তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করা হবে। এই অছিলায় তিনি কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে সরাসরি বিএমডব্লিউর শোরুমে উপস্থিত হন। শোরুমে যাওয়ার পথে লি জিয়ে নামের এক কর্মীকে তিনি কৌতুক করে বলেছিলেন যে, তাকে একটি বড় খেলনা উপহার দেওয়া হবে। কিন্তু শোরুমে পৌঁছানোর পর তারা নিজেদের জন্য রাখা গাড়িগুলো দেখে বিস্মিত হন। এমন উপহার পাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত। লি জিয়ে বলেন, আমি ভীষণ আনন্দিত! এমন কিছু পাওয়াটা আমার স্বপ্নেরও অতীত ছিল।
কর্মীদের এমন বিলাসবহুল উপহার দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এক মানবিক গল্প। একদিন শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে কর্মস্থলে আসার পর এক কর্মীর মুখ লাল হয়ে যেতে দেখে মা ইয়ানলি ব্যথিত হন। তিনি উপলব্ধি করেন, তিনি যখন আরামে যাতায়াত করতে পারেন, তখন কর্মীদের কেন প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হতে হবে। নিজের প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের মূল ভিত্তি কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি তাদের সাফল্য ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তাঁর বিশ্বাস, ব্যবসা ভালো করলে কর্মীদেরও সেই সাফল্যের সুফল পাওয়া উচিত।
এদিকে, এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকে রেস্তোরাঁমালিকের উদারতার পাশাপাশি কর্মীদের প্রতি তার সহমর্মিতার প্রশংসা করেছেন। উল্লেখ্য যে, একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, যার আবেদনের শেষ সময় ৮ ডিসেম্বর। এছাড়া আশফাকুর রহমান নামে এক ব্যক্তি মোটা অঙ্কের বৃত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। ব্যবসায়িক সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে কর্মীদের এমন উপঢৌকন দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে এখন চর্চা চলছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বরের পর্যন্ত। কোটি টাকার ফেলোশিপ-বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন আশফাকুর রহমান। অনেকেই কর্মীদের প্রতি মালিকের উদারতা ও তাঁদের ভোগান্তি নিয়ে ভাবনার প্রশংসা করেছেন।