
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কয়েক দিন ধরেই ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের ছুটির পর থেকেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো হয়নি নিজস্ব সাব-স্টেশন, নেই
শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটর সুবিধা তাই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বেড়ে যায় সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি ।
স্বাভাবিক আবহাওয়াতেও প্রতিদিন গড়ে ছয়-সাতবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। ইদানীং বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্লাস, ল্যাব, প্রেজেন্টেশন ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘গরম শুরু হওয়ার পর থেকে হলে বিদ্যুতের সমস্যা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে দুপুরের সময়ে, যখন শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ একাডেমিক কাজ থাকে, তখনই বেশি বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ না থাকলে হলের ওয়াইফাই সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিদ্যুৎ ফিরে এলেও পুনরায় সংযুক্ত হতে অনেক সময় লাগে। বর্তমানে একাডেমিক কার্যক্রমের অনেক কিছুই অনলাইননির্ভর হওয়ায় এতে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।’
বিজয়–২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ লোকমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে রাতে নিয়মিত লোডশেডিং বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি গরমের মধ্যে হলে স্বাভাবিকভাবে থাকা ও বিশ্রাম নেওয়াও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। বর্তমানে অনলাইন ক্লাস ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কাজও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুন বলেন, ‘অন্যান্য এলাকার তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলেও এখানে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক ক্লাস ও প্রেজেন্টেশন মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে হয় এবং শিক্ষার্থীদের ল্যাব পরীক্ষাও থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদেরও নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার (বৈদ্যুতিক) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬০০ কিলোওয়াট, যা পিডিবি সরবরাহ করছে। গত দুই দিন গাছপালা কাটার কাজের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এছাড়া ইদানীং কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে বলেও আমরা লক্ষ্য করছি। এ বিষয়ে কোটবাড়ী সাব-স্টেশনের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইনটিকে বিআইপি লাইনের আওতায় রাখার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে আমরা গত রবিবার পিডিবিকে চিঠি দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা যেন স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারে, সে জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে দ্রুত সাড়া না পেলে পিডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।’
Leave a Reply