
রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে সংঘটিত ঘটনার জেরে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল বুধবার এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রসিকিউশন আপত্তি না জানানোয় আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি।
প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে পুলিশ কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ অভিযানে কল্যাণপুরের ওই ভবনে ৯ তরুণ নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি তকমা দিয়ে কল্যাণপুরের বাড়িতে এনে তাদের প্রাণ নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাটি পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সাক্ষী হিসেবে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে তাদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত একটি ভবনে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামের ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মামলাটি শুরুতে ট্রাইব্যুনাল-১-এর অধীনে থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা ট্রাইব্যুনাল-২-এ হস্তান্তর করা হয়। এর ফলে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষকে পুনরায় শুনানিতে অংশ নিতে হচ্ছে। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের অভিযোগ আমলে নিয়েছিলেন এবং গত ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ জুলাই অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানিতে মামলার ঘটনাস্থলসহ বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এই মামলায় বর্তমানে সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এছাড়া শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্য পলাতক আসামিরা হলেন ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এবং আবদুল বাতেন। শুনানির সময় প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, অলি মিয়া, মামুনুর রশিদ ও মঈনুল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষে সময় চান আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ।