
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা গ্রামে গভীর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে স্থানীয়দের হাতে হাতেনাতে আটক হয়েছেন এক প্রেমিক যুবক। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিষয়টির কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক যুবক খোকন মিয়ার বাড়ি উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের মিয়াপাড়া মাস্টারপাড়া গ্রামে। তিনি ও তার প্রেমিকা উভয়েই নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
প্রেমিকার দাবি, প্রায় আট মাস ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে তিনি যুবককে গভীরভাবে ভালোবাসেন। তার অভিযোগ, বিভিন্ন সময় অসুস্থতার কথা বলে খোকন তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “শনিবার রাতে সে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। আমার কক্ষে থাকা অবস্থায় ভাই ও প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে যায়। পরে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। আমি তাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি বাঁচব না।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোকন মিয়া। তার দাবি, তাদের সম্পর্ক চার থেকে পাঁচ মাসের বেশি নয়।
তিনি বলেন, “আমি তাকে ভালোবাসি। পরিবারের সম্মতি পেলে তাকে বিয়ে করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এখনই পরিবারের অমতে বিয়ে করলে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হবে। সামনে আমার এইচএসসি পরীক্ষাও রয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রেমিকার ডাকে তিনি রাতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক হয়নি এবং প্রেমিকার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কোনো টাকা নেননি।
প্রেমিকার বাবা ও জ্যাঠা জানান, গভীর রাতে বাড়িতে যুবকের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হলে তিনি এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় যুবক প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে আসার বিষয়টি স্বীকার করেন।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভিড় জমে মেয়ের বাড়িতে। পরে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সহকারী শিক্ষক বজলুর রহমান বলেন, “তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগেও কয়েকবার ওই যুবককে এলাকায় আসতে দেখা গেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু তারা একে অপরকে ভালোবাসে, তাই দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হলে বিষয়টির সুন্দর সমাধান হতে পারে।”
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বাবু জানান, রাত থেকেই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ছেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “প্রেমিক এখনও মেয়ের বাড়িতেই অবস্থান করছে। একটি মেয়ের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। দুই পরিবার রাজি হলে বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টির ইতিবাচক সমাধান সম্ভব।”
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক, বিয়ের দাবি এবং দুই পরিবারের অবস্থান নিয়ে পুরো এলাকায় চলছে তুমুল আলোচনা। শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী।