
জঙ্গিরা প্রথমে রাজনীতিবিদ, ভিআইপি বা ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে। তারপর সুন্দরী নারীদের লেলিয়ে দেয় টার্গেটের পেছনে।
টার্গেট সেই ‘হানি ট্র্যাপে’ পা দিলেই তার কাছ থেকে ব্যক্তিগত বা প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে টার্গেটকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করা হয় অথবা আরো তথ্য দিতে বাধ্য করা হয়।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জঙ্গিদের হানি ট্র্যাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স-এসটিএফ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহরের একটি আবাসন কমপ্লেক্সে ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে মোহাম্মদ হামিম মন্ডল নামে এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে।
হামিম মণ্ডলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মোহাম্মদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। হামিম মণ্ডলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ শুক্রবার ঝাড়খন্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে তার প্রেমিকা এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সদস্য অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করে।
হামিম মণ্ডলকে বর্ধমান আদালত ইতিমধ্যে ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
তাকে বর্ধমান থেকে কলকাতায় এনে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতারের পর অর্পিতা সরকারকেও বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাকেও হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের আইজি গৌরব শর্মা জানিয়েছেন, অর্পিতা সরকারকে মূলত একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ এবং তার ছেলেকে হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল ও বিপুল টাকা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার আড়ালে একটি বড়সড় সুসংগঠিত জঙ্গি চক্র কাজ করছিল।
অর্পিতা প্রভাবশালীদের প্রলুব্ধ করে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি, উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের অপহরণ করে জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত করার মতো অ্যাসাইনমেন্টও পেত।
বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার করা হামিমের মোবাইল ও ল্যাপটপের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করে জানা গেছে, তার মূল দায়িত্ব ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি অনুসরণ করা। মুখ্যমন্ত্রী যখন নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ফিরতেন, সেই যাতায়াতের নির্দিষ্ট রাস্তাগুলোতে সরাসরি গিয়ে রেকি করত হামিম মন্ডল।
হামিম মূলত পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলার এবং পুলওয়ামা হামলার অন্যতম প্রধান, অভিযুক্ত সাজ্জাদ ভাটের জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পূর্ব ভারতে অনলাইন মাধ্যমে উগ্রপন্থী আদর্শ ছড়ানো এবং আরএসএস ও বিজেপির বড় নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করাও ছিল তার মূল দায়িত্ব। আর তথ্য সংগ্রহ করার কাজে হামিম ব্যবহার করত তার প্রেমিকা অর্পিতা সরকারকে। অর্পিতা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মণ্ডলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত এবং তদন্তের সময় পুলিশ তাদের দুজনের কথোপকথনের স্ক্রিনশট উদ্ধার করেছে।
তদন্তে জানা গেছে, দিল্লির একটি পূর্ববর্তী আন্দোলনের সময় নাশকতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পুলিশের ভুয়া পোশাক বা ইউনিফর্ম জোগাড় করার পরিকল্পনা ছিল এই নেটওয়ার্কটির, যার সঙ্গে অর্পিতা ও হামিমের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তার নিয়ে জানতে চাওয়া হলে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়। এসটিএফ এবং সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা মামলাটি দেখছেন। তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থাকতে পারে, পুলিশ তদন্ত করছে।’