
টানা বর্ষণে গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাঁচা গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও মাটি কাটার মতো উন্নয়ন কাজগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সদ্য কাটা মাটির বাঁধ ধসে পড়ছে, ইটের সোলিং দেবে যাচ্ছে এবং খোয়া বিছানো রাস্তাগুলো কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।এর ফলে গ্রামীণ জনপদের মানুষকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
এবার ২৫-২৬ অর্থবছরে চরফ্যাশন উপজেলায় প্রায় ২শত কিলোমিটার রাস্তায় মাটির কাজ হয়েছে টিআর,কাবিখা,কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে। এর মধ্যে এবারের টানা বর্ষণে প্রায় ৭০থেকে ৮০ কিলো মিটার রাস্তা পানিতে ভেষে গেছে।
সরেজমিনে কয়েকেটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের কাঁচা রাস্তাগুলোর বেশির ভাগই খানাখন্দে ভরে গেছে। উপজেলা প্রকৌশলির র্কাযালয়,এলজিইডি চরফ্যাশন ভোলার আওতায় নিমির্ত পাকা সড়কেরও অনেক জায়গার পিচ উঠে মাটি ও বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে কাদায় পরিণত হয়েছে। খানাখন্দের মধ্যেই কষ্ট করে চলছে যানবাহন ও পথচারীরা।
চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার আদর্শ কলেজ থেকে নীলকমল ইউনিয়নের চর যমুনা এলাকার ৫, ৪ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড গিয়ে দেখা যায় । উত্তরে হেজু মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজ পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি বেহাল দশার কারণে এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদ্য মেরামত করা প্রায় সব কাঁচা রাস্তায় টানা বর্ষণে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজ পডুয়া ছাত্রছাত্রী, পথচারী এবং চাকরিজীবীরা। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। অটোরিকশা, ভ্যানের দুর্ঘটনা নিত্যসঙ্গী। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন শত শত স্কুল ও কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে কাদা মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হওয়াসহ পড়ালেখায়ও বিঘ্ন ঘটছে।
ওই এলাকার কয়েকজন অটোরিকশা চালক বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে অতিরিক্ত মেরামত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
বৃষ্টিতে গ্রামীণ জনপদের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। তিনি জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মর্কতা (পিআইও) অফিস এর অধিনে গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধিনে সদ্য নির্মিত মাটির ও ইটের রাস্তা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সদ্য কাটা মাটি ধ্বসে পড়ছে, ইটের সোলিং দেবে গেছে। আমরা চেষ্টা করবো এই প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট ও ইটের সলিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শেষ করে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমাতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।