
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে অত্যন্ত যৌক্তিক হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, সঠিক সময়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এক কর্মী ও সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যদি এই শ্রমিক আন্দোলনে কোনো অশুভ গোষ্ঠী বা ফ্যাসিস্টরা অনুপ্রবেশ করে নৈরাজ্য চালায়, তবে তার পুরো দায়ভার বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।
নাহিদ ইসলামের মতে, পোশাক খাতে মজুরি নিয়ে সংকট দানা বাঁধছিল গত দুই সপ্তাহ ধরেই। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সরকার আগেই শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে পারত। কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ষড়যন্ত্রের তকমা দিয়ে সরকার নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধী মত দমনে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকলেও দেশের প্রকৃত শত্রুরা কী করছে, সেদিকে নজর দিচ্ছে না। এটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে।
বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত আট মাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দলটি এখন আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। সরকার রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অদক্ষ এবং জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় মাঠের পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে না। এছাড়া ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে চুক্তি নবায়ন তো দূরের কথা, বিষয়টি নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপই দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
আওয়ামী লীগের অপপ্রচার নিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ডিসেম্বরে তাদের যেকোনো উসকানি রাজপথেই প্রতিহত করা হবে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের মতো এটিও জনগণেরই থাকবে। দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি জানান, এনসিপি ১১-দলীয় জোটে থাকলেও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও এককভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দল গোছাতে বর্তমানে সারা দেশে আঞ্চলিক সমাবেশের কাজ চলছে। পাবনার এই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আহ্বায়ক মাহিন সরকার ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।