
ক্রিকেটের ওয়ানডে সংস্করণে ৩০৬টি ইনিংস খেলে ফেলেছেন বিরাট কোহলি। এর মধ্যে ব্যক্তিগত সংগ্রহে রয়েছে ৫৫টি সেঞ্চুরি এবং ৮০টি ফিফটি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে, এত রেকর্ডের ভিড়ে তার প্রিয় ইনিংস কোনটি? সাধারণত বড় সেঞ্চুরিগুলোর মধ্য থেকেই কোনো একটি ইনিংসকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু কোহলির পছন্দটা একেবারেই ভিন্ন। ৩৮তম জন্মদিনে স্টার স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস হিসেবে এমন একটি ম্যাচকে বেছে নিয়েছেন, যেখানে কোনো সেঞ্চুরি তো দূরের কথা, কোনো ফিফটিও ছিল না। ওয়ানডেতে ৩০৬ ইনিংসে একজন মানুষের শুধু সেঞ্চুরিই ৫৫টি। এমন কাউকে এই সংস্করণে নিজের সেরা ইনিংস বেছে নিতে বলা হলে নিশ্চয়ই সেঞ্চুরিগুলোর ভেতর থেকে একটি উঠে আসবে। কিন্তু মানুষটি যদি হন বিরাট কোহলি তাহলে এই ভাবনাটা ভুল। এ উপলক্ষে স্টার স্পোর্টসের এক্স হ্যান্ডলে আজ সকালে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। কোহলির জন্মদিনে দেখে নিন তাঁর বিরল ১০ কীর্তি।
কোহলির এই পছন্দের তালিকার শুরুতেই ছিল ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনাল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচে তিনি ৩৫ রান করেছিলেন। এরপর ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ৫১ রান তাড়ায় করা ১২২ এবং ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা ১৬০ রানের ইনিংসের কথাও আলোচনায় আসে। তবে কোহলির দৃষ্টিতে সেই ৩৫ রানের ইনিংসটিই ছিল বিশেষ। দলীয় অর্জনের প্রতি তার দুর্বলতার কারণেই মূলত তিনি বিশ্বকাপ জয়ের ওই ম্যাচটিকে এগিয়ে রেখেছেন। এমনকি ২০২৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করা ৮৫ রানকেও তিনি তার সেরা ইনিংসের তালিকায় শীর্ষে জায়গা দেননি। প্রথম প্রশ্নটি ছিল, ২০১২ সালে হোবার্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৩ নাকি ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫। হোবার্টে সে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ৩২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪০ ওভারের মধ্যে জেতে ভারত। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। দুই বছর আগের সেই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৯ তাড়া করতে নেমে ভারত ৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। কোহলি এরপর ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৫১ রান তাড়া করতে নেমে তাঁর ১২২ ও পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৬০ রানের চেয়েও এগিয়ে রাখেন তাঁর সেই ৩৫ রানের ইনিংসকে।
তবে সব ইনিংসকে ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত তার কাছে সেরা হয়েছে ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা ৪৩ রানের সেই ইনিংসটি। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ফাইনালটি ২০ ওভারে নেমে এসেছিল। আগে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত ৬৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন বিপর্যয়ের মুখে। সেই কঠিন মুহূর্তে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে তুলেছিলেন কোহলি। ৩৪ বলে করা সেই ৪৩ রানের ইনিংসটির ওপর ভিত্তি করেই ভারত শেষ পর্যন্ত ৫ রানে জয়ী হয়ে শিরোপা ঘরে তোলে।
কোহলি নিজে স্বীকার করেছেন যে, ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলার কারণেই এই ইনিংস দুটি তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
অর্থাৎ তার বিচারে সেরা দুটি ইনিংসই ছিল চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানোর কারিগর।
এই তালিকার কাছে হার মেনেছে তার অনেক দুর্দান্ত ইনিংস; যার মধ্যে রয়েছে ২০১২ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ১৮৩, ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৩৮ এবং একই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ১০৭ রানের ইনিংসগুলোও। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ে ৭৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলার ঠিক পরের দিনই তিনি নিজের এই পছন্দের কথা জানালেন। গতকাল রাতেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের প্রথম ওয়ানডে জয়ে ৭৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলা কোহলি বেশ আগ্রহ নিয়েই প্রশ্নের উত্তর দেন।