1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে একাট্টা ইসরায়েলের চার বিরোধী দল - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জাবিতে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে তালা ভাঙল ছাত্রদল চট্টগ্রামে যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েল ও আরমান গ্রেপ্তার নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে একাট্টা ইসরায়েলের চার বিরোধী দল নাহিদ ইসলাম: শ্রমিক আন্দোলনে যদি ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটে, এর দায়ভার সরকারের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প, বড় পরীক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরো দলে সুযোগ পেল রোনালদোর ছেলে তিন মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পরকীয়া গোপন রাখতে দম্পতিকে হত্যা: পুলিশ শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে একাট্টা ইসরায়েলের চার বিরোধী দল

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন দেশটির চারটি বিরোধী দলের নেতারা। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হার্জলিয়ায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারা এই সিদ্ধান্ত নেন। আগামী সপ্তাহে নতুন নেসেট বা ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সদস্যরা শপথ নেওয়ার আগেই তারা সংসদীয় কৌশলগুলো সমন্বয় করার পরিকল্পনা করছেন। এতে নেতানিয়াহুর বাধার মুখে থাকা কয়েকটি আইন প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা ৪৮, যা নেতানিয়াহুর জোটের ৫৩টি আসনের তুলনায় কম। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তাদের আরব দলগুলোর সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে, যারা নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। তবে ইহুদিবিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করতে আগ্রহী নন, যা এই প্রক্রিয়াকে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। ফলে নতুন সরকার গঠনের পথ এখনো অনিশ্চিত। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করেছে, নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরানো প্রয়োজন।

বৈঠক শেষে ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, বি’ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

তারা গাদি আইজেনকটের প্রস্তাবিত চারটি মূল নীতির ভিত্তিতে সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে সম্মত হয়েছেন।

এই নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সমুন্নত রাখা, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ মেনে চলা, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং গাজায় হামাসের সামরিক সক্ষমতা ও শাসন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

বিরোধী নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা দ্রুত একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের দিকে এগোবেন। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও উপস্থিত ছিলেন। নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হলে লিকুদ দলের আমির ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে অপসারণ করা বিরোধী জোটের অন্যতম অগ্রাধিকার হতে পারে। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পিকার হিসেবে ইয়ার লাপিদের নাম নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সোমবার নেওয়া হবে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দলগুলোর নেতারা ঐক্যবদ্ধ এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর গঠিত সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে সরকারের ব্যর্থতার জন্য তারা নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন এবং তার প্রতি গভীর অনাস্থার কথা জানিয়েছেন।

সংসদীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করার বিষয়েও নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তারা অবিলম্বে নীতিগত নির্দেশিকা ও জোটের কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, নির্বাচনের ফল নিয়ে নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টির প্রচারণাকে বিরোধীরা ‘বিপজ্জনক ও উন্মত্ত’ হিসেবে অভিহিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তাদের ভাষায়, এটি একটি ‘বিপজ্জনক ও উন্মত্ত প্রচারণা’।

তবে লিকুদ পার্টি এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে।

তারা দাবি করেছে, বিরোধী দলগুলো এমন এক সরকার গঠন করতে চাইছে যা সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সংগঠনগুলোকে স্বীকৃতি দিতে আরব দলগুলোর অনিচ্ছার বিষয়টি তুলে ধরে লিকুদ এটিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। এছাড়া বিদেশি অর্থায়নে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগও তারা উত্থাপন করেছে, যদিও নির্বাচন তদারকির দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোআম সোলবার্গ ফল স্থগিতের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। লিকুদ পার্টির অভিযোগ, কাতার বা অন্য কোনো বিদেশি শক্তি গোপনে অর্থ দিয়ে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করেছে এবং নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। দলটির দাবি, সম্ভাব্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্য হামাস ও হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও অনিচ্ছুক। গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে এমন সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে লিকুদ।

জোট গঠনের এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে নাফতালি বেনেট তার দলের পক্ষ থেকে গাদি আইজেনকটকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি এমন একটি ‘জাতীয় পুনর্গঠনমূলক জায়নবাদী সরকার’ গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন, যা ইসরায়েলের সামরিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ঢেলে সাজাবে। ইয়ার লাপিদও পুনরায় উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রী থাকাটা দেশের জন্য ক্ষতিকর এবং তাকে অপসারণ করাই এখন সময়ের দাবি। নেসেটে থাকা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগানোর কথাও উল্লেখ করা হয়। ভবিষ্যৎ জোট সরকারে তাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।

এদিকে, ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান সরকার গঠনের কৌশলের অংশ হিসেবে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন ও আহমেদ তিবির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনের পর এটিই ছিল তাদের মধ্যে প্রথম আলোচনা। গোলান আরব জনগোষ্ঠীর সমস্যাগুলোর সমাধান ও রাজনৈতিক সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে পরিবর্তনের সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে বিরোধী জোটের বাকি নেতারা, বিশেষ করে আভিগদর লিবারম্যান, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছেন।

লিবারম্যান দাবি করেছেন, আরব দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়াই স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব। তিনি অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে কিছুটা নমনীয় ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও তিনি সামরিক বাহিনীতে তাদের অব্যাহতির বিষয় নিয়ে বরাবরই কঠোর অবস্থানে ছিলেন। লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে এসব বিরোধীকে ‘দ্বিচারী’ বলে আক্রমণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর ভাগ্য এবং নতুন জোট গঠনের নাটকীয়তা ইসরায়েলের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর