
রাজধানী ঢাকার অদুরে হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদে উচ্চদরে সরকারি পশুর হাট ইজারা নিয়েও ব্যবসা করতে পারছেন না মজিবুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। অভিযোগ উঠেছে, দুষ্কৃতিকারি একটি মহল পশুর হাটটি জোর পুর্বক দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে। সেই সাথে হাট চলাকালে ছাত্র-জনতাকে ভুল বুঝিয়ে স্থানীয় চাঁদাবাজরা যে যার মত হরিলুট করায় তার ব্যবসা পরিচালনা করতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। এ সকল ঘটনায় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান কেরানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশের আইজিপি মহোদয় বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ।
অভিযোগ উঠেছে ছাত্র-জনতাকে ভুল বুঝিয়ে তাদের ব্যবহার করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা পাতি নেতা চাঁদাবাজরা মিলে পশুর হাটটি দখল ও লুটপাট করছে। তবে অভিযোগ দিয়ে আইনি সহায়তা চেয়েও কোন প্রতিকার মেলেনি এখনো ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর।

সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি পশুর হাটটি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে স্মারক-নং-০৫. ৪১. ২৬৩৮. ০০০. ২০.০০৫.১৩-২১১ তারিখ- ২৪/৩/২০২৪ বলে ইজারা পান মজিবুর রহমান। এই পশুর হাটটি ইজারা পেয়েও ব্যবসা করতে পারছেন না তিনি। হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি পশুর এই হাটটি গরু ছাগল বেচা বিক্রির জন্য নিয়মিত প্রতি শনিবার বসে। গত ১০ ই আগস্ট গরু-ছাগল বেচা বিক্রির জন্য হাঁট বসলেই বাঁধে বিপত্তি অতর্কিত ভাবে এসে দুষ্কৃতিকারীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাটটি দখলের নেয়ার পাঁয়তারা করে। পরে হাসিল না দিয়ে জোর পূর্বক গরু বাছুর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মজিবুর রহমান ও তার লোকজন বাঁধা দিলে তাকে এবং তার নিয়োগ কৃত কর্মচারীদের প্রাণ নাশের হুমকি দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। এ সময় হাট দখলে নিতে না পেরে দুষ্কৃতিকারীরা যাওয়ার পথে তার বাড়ি ঘরেও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এই ইজারাদার।
পরে ভুক্তভোগী মজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর অবগত করে এবং ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে হাটটি দখলমুক্ত করে এবং কয়েকদিন হাটের দায়িত্ব নেয় ছাত্র-জনতার কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতে আবার সেই পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী বলেন, এরা অনেক ক্ষমতাধর এরা বিএনপির সমর্থিত বলে এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ প্রশাসন। আর এই হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদকে ঘিড়ে তারা এখন গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী । কেউ তাদের কথার অবাধ্য হলেই মিথ্যা মামলাতে জড়িয়ে হয়রানি নির্যাতন করা । বর্তমানে এই বাহীনি সদস্যরা হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদকে ঘিড়ে অপরাধ সাম্রাজ্যের ডনে পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শুধু তাই নয় গ্রামবাসী-কে জিম্মি করে নগদ অর্থ আদায় এবং জোরপূর্বক আবাদি কৃষি জমির দখলে নেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একাধিক অভিযুক্তর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে বিএনটির দলিয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ইতি মধ্যেই দল থেকে বহিস্কারও হয়েছে অনেকে। দলটির নিতি নির্ধারকরা বারবার নেতা কর্মীদের হুশিয়ার করে বলছে, এরকম কোন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাকে দল থেকে বহিস্কারের পাশাপাশি আইনের হাতে তুলে দেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তার পরেও দলের শুনাম ও ভাবমূর্তী নষ্ট করতে একটি চক্র অপচেষ্টা করছে বলে মনে করছেন একাধিক সিনিয়র হাই কমান্ডের নেতৃবৃন্দ। বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, এরা ভয়ঙ্কর দুষ্কৃতিকারী দলের কেউ নন স্বৈরচার আওয়ামীলীগের এজেন্ডা দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী নব্য বিএনপি, দলের শুনাম নষ্ট করতে চায়। এরা বিএনপি’র নাম ভাঙ্গিয়ে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিনাত ফৌজিয়া বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বর্তমান ইজারাদারের ইজারার টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও পরিশোধ না করায় আমরা ইজারা বাতিল করেছি। খাস আদায় কমিটির মিটিং শেষে একটি খাস কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পরবর্তী ইজারাদা না হওয়া পর্যন্ত তারাই ইজারা আদায় করবে। কেউ যদি অনিয়ম করে থাকে তা হলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।