
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে তিন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরীন হীমার আদালতে তাকে সোপর্দ করে তিন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে জেলা পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে এসব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (সরকারি কৌঁসুলি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ডেভিড ইমনকে তিনটি মামলায় পুলিশ গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র মামলা। আরেকটি হত্যা মামলা। হত্যা মামলায় তার নাম না থাকলেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তার নাম এসেছে। আদালত শুনানি শেষে তাকে এ তিন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ডেভিড ইমনের পক্ষে আজ আদালতে কোন আইনজীবী ছিল না।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে যশোরের কোতোয়ালী থানা পুলিশ ও যশোর ডিবি যৌথ অভিযানে ধুমধুমপুর এলাকা থেকে
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চার সহযোগী আল ইসলাম আলিফ , তমাল, শামিম, সাফায়েতকে গ্রেফতার করা হয়৷
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে সিএমপি ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্য গুরুতর অপরাধে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মো মাসুদ আলম জানান,
ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
এ আধার কার্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ডেভিড ইমনের ছবিযুক্ত এ আধার কার্ডে নাম উল্লেখ রয়েছে আজাহার খান। জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ১২ মে ১৯৯৮ সাল। আধার কার্ডের নম্বর ১২৩৪৫৬৭৮৯০১২।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যেতে চেয়েছিল ডেভিড ইমন। বুধবার সকাল ৬টায় ভারতে পৌঁছার কথা ছিল। তাকে কে পার করিয়ে দেবে এবং ভারতের প্রান্তে তাকে কে রিসিভ করবে সবই ঠিক ছিল। তার কাছে যে আধার কার্ড পেয়েছি, সেটা ভারতে গিয়ে ব্যবহারের কথা। এ বিষয়ে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।