
জনগণের ভোটে সরকার ক্ষমতায় গেলে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াত বগুড়া জেলা ও শহর শাখার উদ্যোগে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে জীবনদানকারী বীর শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ।
জনগণ জামায়াতকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে শহীদদের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই টাকা দেশে এনে আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়নখাতে ব্যয় করা হবে। রাষ্ট্রের টাকা রাষ্ট্রীয়খাতেই ব্যয় করা হবে।
জামায়াতের আমির বলেন, আমরা বিভক্ত বাংলাদেশ চাই না। সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। অতীতে যারা ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছিল, তাদের পরিণতি মানুষ দেখেছে। এখনো যারা নানা কৌশলে জনগণকে ধোঁকা দিতে চায়, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আর কেউ সরকারি কোষাগার থেকে চুরি করতে পারবে না। যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে, সেই টাকা উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লোকেরা অতীতে কখনও চাঁদাবাজি করেনি, বর্তমানে করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা হলো- ‘আমরা চাঁদাবাজি করব না, কাউকে করতেও দেব না।
নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা আমাদের মায়ের জাত। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও যোগ্যতার সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেবেন। তারা নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে চলাফেরা করবেন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মায়েদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কেউ নারীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইলে তা বরদাশত করা হবে না।
বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
Leave a Reply