
কুড়িগ্রামের রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ময়লার ভাগাড়, পচা পানি ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্বস্তিকর পরিবেশ। এতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দারা। স্টেশনের অবকাঠামোও রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশন ভবনের দুই পাশে জমে থাকা নোংরা পানি, কচুরিপানা ও আবর্জনার স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। কোথাও পানি জমে ছোট জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বাতাসে দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে, কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
স্টেশন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার ও ভাঙা ঢালাই চোখে পড়ে। যাত্রীদের বসার জন্য থাকা বিশ্রামাগার কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী শৌচাগারের কারণে যাত্রীরা পড়ছেন চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। অনেককে আশপাশের বাসাবাড়িতে গিয়ে প্রয়োজন সারতে হচ্ছে।
রংপুরগামী যাত্রী সামছুল ইসলাম বলেন, “স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। চারপাশের দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করাটা খুব কষ্টকর।” রাজারহাট প্রেস ক্লাব সভাপতি সরকার অরুণ যদু
বলেন, “স্টেশন এলাকা নিচু হওয়ায় আশপাশের বাজার ও কচুবাগানের নোংরা পানি এখানে এসে জমে। শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।”
স্টেশনের প্রবেশপথে পান বিক্রেতা হাফিজুর রহমান জানান, স্টেশন ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ এলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার সুমন বলেন, “স্টেশন পরিষ্কার রাখতে আমরা চেষ্টা করি। তবে স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে রাতে ময়লা ফেলা হয়। পাশাপাশি মসজিদের ওজুর পানি ও মাছ বাজারের বর্জ্য এসে জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।”
স্টেশন ভবনের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতোমধ্যে বরাদ্দ এসেছে। প্রথমে দরজা-জানালার কাজ শুরু করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে মূল ভবনের মেরামত ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্টেশন এলাকা পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু, মাটি ভরাট ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন না করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
Leave a Reply