
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এরই মধ্যে রেলপথে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। রাজশাহী অভিমুখী আন্তঃনগর ট্রেন ধুমকেতু এক্সপ্রেসের মধ্য দিয়ে রেলপথে ঈদ যাত্রা শুরু হলো। কয়েকটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হলেও বেশিরভাগ ট্রেনই নির্দিষ্ট সময়েই ছেড়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঠিক ভোর ৬ টায় ৪ নাম্বার প্ল্যাটফর্ম থেকে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। রংপুর এক্সপ্রেসসহ তিনটি কমিউটার ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হলেও বাকি ১৫ টি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়েই যার যার গন্তব্যে ছেড়ে যায়। নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাত্রা করতে পেরে যাত্রীরাও উচ্ছ্বসিত।
ভোর থেকেই যাত্রীদের আনাগোনা দেখা যায় কমলাপুর রেলস্টেশনে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেস্টনী পেরিয়ে প্রবেশ করেন প্ল্যাটফর্মে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ও স্বাছন্দ্যে করতেই নাড়ীর টানে বাড়ির পথে রওনা করেন তারা।
এদিকে ঈদযাত্রা ভোগান্তিহীন হওয়ায় খুশি যাত্রীরা। স্টেশনেও নেই যাত্রীচাপ।তবে কেউ কেউ ঈদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও অনলাইনে টিকিট না পাওয়া নিয়ে হতাশার কথাও জানান।
এদিন সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে আসেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। রেলমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে করতে নেয়া হয়েছে সব রকম প্রস্তুতি।
তিনি বলেন, আমরা মনে করছি না এবার বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় হওয়ার সুযোগ আছে। ৮৫ থেকে ৮৭টি লোকোমোটিভ যদি আমরা অ্যারেঞ্জ করতে পারি তাহলে শিডিউল বিপর্যয়ের কোনো সম্ভাবনা আশা করি এই ব্যবস্থাপনায় থাকবে না। ইতোমধ্যে আমরা ৭৮টি লোকোমোটিভ যুক্ত করতে পেরেছি।
আরও দুই দিনের মধ্যে কয়েকটি লোকোমোটিভ যদি যুক্ত হয়ে যায়, কোচের সংখ্যা যা বাড়িয়েছি, স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা যা বাড়িয়েছি-মোটামুটি চাপ থাকলেও তা ম্যানেজ করতে সক্ষম হব বলে মনে করছি।
ছাদে বসে ভ্রমণের ব্যাপারে রেলমন্ত্রী বলেন, আমরা তো কোনো অবস্থাতেই সেটা চাইছি না। নিবৃত করছি, বাধা দিচ্ছি, প্রতিরোধ করছি। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে যদি দুই-চার জন শেষ মুহূর্তে উঠে যায়। এ কারণে, একজন লোকও ট্রেনের ছাদে বসে যাবেন না-এভাবে শতভাগ নিশ্চিয়তা দিয়ে বলাটা কঠিন।
এদিকে আজ থেকেই ফিরতি যাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিটও বিক্রি শুরু হয়েছে।
Leave a Reply