1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি ও অবরোধ, ধস পর্যটন খাতে - আজকের কাগজ
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি ও অবরোধ, ধস পর্যটন খাতে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫২ পিএম
শেয়ার করুন

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ঘটনার প্রতিবাদে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ, যা পাহাড়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংর্শ্লিষ্টরা।

অবরোধের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা প্রথমে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে তারা পালটা গুলি চালায়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী একতরফাভাবে গুলি বর্ষণ করেছে। অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে বিভিন্ন মহল থেকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ বলা হলেও সহিংসতার প্রকৃত কারণ ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে।

বৃহস্পতিবারের সহিংসতার পর সাজেক গঙ্গারাম এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা জানান, আতঙ্কের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। তিনি জানান, শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলেছে। সকালে বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে পিকেটিং করা হলেও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকা অবস্থায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বর্তমান সার্বিক অবস্থা নিয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, ওই এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে ভরা মৌসুমেও স্থবির হয়ে পড়েছে সাজেকের পর্যটন খাত। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল বন্ধ থাকায় এবং আগাম বুকিং বাতিল হওয়ায় পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা প্রায় ২০ কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা ও কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা জানান, পর্যটন বন্ধ থাকায় কটেজ মালিক, পরিবহন খাত, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা চরম সংকটে পড়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা জুমের ফসল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়েছেন। ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। শুধু পর্যটন নয়, সড়ক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ এবং জুমের ফসল বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এ অবস্থায় সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। শহরের সরকারি কলেজ গেট থেকে বের হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়ায় তা বন্ধ থাকলে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ে। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধে পর্যটকরা আতঙ্কে আছেন; দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর