
কুড়িগ্রামের উলিপুরে একই বিদ্যালয়ে চাকরি করেন স্বামী-স্ত্রী। সেই বিদ্যালয়েই বিরতির সময় স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করেন স্বামী। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাতেই চুলের মুঠি ধরে মারধর ও গলা চেপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরে মামলা হলে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে ওই সহকারী শিক্ষককে।
গ্রেপ্তার এনামুল হক সরকার মানিক (৪৫) তবকপুর ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪১) একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। নাসিমাই এ ঘটনায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে এনামুল হক সরকার মানিকের সঙ্গে নাসিমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ২০২২ সালে আদালতে মামলা করেন নাসিমা।
পরে ওই মামলা মীমাংসা হলেও কিছুদিন পর ফের শুরু হয় নির্যাতন। এবার স্বামীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ করেছেন নাসিমা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের বিরতির সময় নাসিমার কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করেন মানিক। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি দেখে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে নাসিমাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ১০ আগস্ট থানায় মামলা করেন নাসিমা বেগম। মামলা হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে এনামুল হক সরকার মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবকপুর ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজা বেগম বলেন, ‘তারা দুজনই এ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। নাসিমাকে নির্যাতনের অভিযোগে মানিক স্যারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
উলিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোগদার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে সোমবার থানায় মামলা হয়। রাতেই অভিযান চালিয়ে এনামুল হক সরকার মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।