
রাজধানীর পার্শবর্তী আশুলিয়া থানাধীন আউকপাড়া আদর্শ গ্রামের সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আউকপাড়া মৌজার একটি বিশাল জায়গা (প্রায় ২০ একর) জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে স্থানীয় ভূমিদস্যু ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা নিয়মিত হামলা এবং হুমকি দিয়ে আসছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডর নেতৃত্ব দিচ্ছে মতিন, রায়হান, শাকিল, ফারহান সহ তাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। প্রতিনিয়তই তারা এলাকায় অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসকল সন্ত্রসীদের অপরাধীদের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলেনি ভুক্তভুগিদেরদের। বরং উল্টো হুমকির মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অনেক পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার আসামিরাও তাদের সাথে দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ভুক্তভুগিরা ভভিযোগ করে বলেন, চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে হামলা চালায় ঘড়বাড়ী কুপিয়ে ভাংচুর করে গেছে এবং তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। থানায় অভিযোগ করেও কোনো সহায়তা পাননি তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকা এখন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে।দীর্ঘদিন ধরে তারা আশুলিয়া ও সাভারজুড়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও প্রকাশ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। চাঁদা না দিলে দলবল নিয়ে হামলা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, মতিউর রহমান ওরফে “কসাই মতি, এ ঘটনায় নেপথ্যে প্রভাব বিস্তার করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অতীতে কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ঘটনায়ও অভিযুক্ত তিনি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও এলাকায় গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভুগিরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে জমি দখল, সন্ত্রাসী চাদাবাজী কর্মকাণ্ড এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে এলাকাবাসীর একাংশ আশুলিয়া ফাঁড়ির এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হামলাকারীদের পক্ষ নিয়ে অবস্থান করছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি “আজকের কাগজকে” বলেন, অভিযোগ পেয়েছি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে অপরাধী কেউ পার পাওয়ার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, পুলিশের একা পক্ষে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার প্রয়োজন তাই সকলের সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।