1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
আজ ১০ ডিসেম্বর ভোলা পাকহানাদার মুক্ত দিবস - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দেশে আসছে পেপ্যাল, ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার পাবেন পরিচয়পত্র : প্রধানমন্ত্রী নৌ অবরোধ তুলে নিলে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব হবে না: ট্রাম্প অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে শর্ত ইরানের শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় নিলেন স্ত্রী ‎ক্লাস পরিক্ষা বন্ধ করে শিক্ষকদের আন্দোলন,ক্ষোভ ও হতাশায় ববির শিক্ষার্থীরা হিলিতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত মুন্সীগঞ্জে শ্রীনগরে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৭ কুড়িগ্রামে ট্রলিচাপায় শিশুর মৃত্যু চলমান আন্দোলন নিয়ে ববি শিক্ষকদের মধ্যে মতভেদ, স্বাক্ষর ব্যবহার নিয়ে নিজস্ব ফেসবুক গ্রুপে প্রতিবাদ

আজ ১০ ডিসেম্বর ভোলা পাকহানাদার মুক্ত দিবস

গাজী তাহের লিটন, ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৭:৪৫ পিএম
শেয়ার করুন

আজ “ভোলা” মুক্তি দিবস। ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর তথা আজকের এই দিনে ভোলা পাক হানাদার মুক্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশ স্বাধীন হলেও ভোলা স্বাধীন হয়েছিলো ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল চাপের মুখে পাকবাহিনী কোনঠাসা হয়ে পড়ে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে ১০ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী কার্গো লঞ্চ যোগে ভোলা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তাদের চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে মুক্ত হয় ভোলা।

পাকবাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর ১০ ডিসেম্বর সকালে বর্তমান ভোলা কালেক্টরেট ভবনের সামনের জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের ছাদে পতাকা উড়িয়ে ভোলাকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধারা। পাকবাহিনী চলে যাওয়ার পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা আশপাশ থেকে শহরে প্রবেশ করে। শহরের ওয়াপদা, পাওয়ার হাউজ ও পরবর্তীতে জেলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে এবং শুরু হয় আনন্দ মিছিল।

১৯৭১-এ দেশ রক্ষায় সারাদেশের ন্যায় ভোলাতেও চলে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ, বাংলা স্কুল, টাউন স্কুল মাঠ ও ভোলা কলেজের মাঠের কিছু অংশে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয় ভোলার ঘুইংঘারহাট, দৌলতখান, বাংলাবাজার, বোরহানউদ্দিনের দেউলা ও চরফ্যাশন বাজারে। বিপুল সংখ্যক পাক সেনাকে হটিয়ে যুদ্ধে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন। ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারের ধরে এনে হত্যা করে তেঁতুলিয়া নদীতে ফেলে দেয়া হত। মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় তেঁতুলিয়ার পানি।

বহু নারীকে ক্যাম্পে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের পর সকাল বেলা লাইনে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই সময় হানাদার বাহিনী অগণিত মানুষকে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন ছাড়াই গণকবর দেওয়া হয়।

পাকসেনারা পালিয়ে গেলে ওয়াপদা থেকে ৩০ জন বীরঙ্গনাকে উদ্ধার করা হয়। তাদের চিকিৎসা শেষে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভোলা শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস চত্বর দখল করে পাক-হানাদার বাহিনী ক্যাম্প বসায়। সেখান থেকে চালায় নানান পৈচাশিক কর্মকাণ্ড। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী নিরীহ মানুষদের ধরে এনে হত্যা করা হয়। ওয়াপদা ভবনের পেছনে গণকবর দেয়া হয়। সেটি এখন বধ্যভূমি। এছাড়াও ভোলার বাংলা বাজারে ২৭ অক্টবর পাকহানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এতে অনেকেই প্রাণ হারায়। এছড়াও গুইংগারহাট, দৌলতখানে গুপ্ত বাজার, বোরহানউদ্দিনের দেউলাতে যুদ্ধ হয়। এসব বদ্ধভূমি ও সম্মূখ মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনের স্থান গুলোর মধ্যে শুধু মাত্র ভোলার পাউবোর বদ্ধভূমি ও বাংলা বাজারে মুক্তিযুদ্ধের স্থান সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ভোলা বাংলা বাজারে মুক্তিযুদ্ধের স্থান সংরক্ষণের কাজ শুরু হলেও অন্যান্য বদ্ধভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের স্থানগুলো সংরক্ষণ করা হয়নি।

ভোলা মুক্ত দিবস আজ। একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় ভোলা। শক্রমুক্ত ভোলায় হাজারো মুক্তিকামী মানুষ সেদিন রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাস করেন। ১৯৭১ সালের এইদিনে সকাল ১০টার দিকে ভোলার লড়াকু সন্তানরা তখনকার ভোলা এসডিও অফিস বর্তমান জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের ছাদে উঠে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে উড়িয়েছিলেন লাল সবুজের স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা।

মুক্তিযোদ্ধারা ভোলার অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যখন শহর নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রস্তুতি নেন, সেই সময় ১০ ডিসেম্বর ভোররাতে পাকিস্তানি হানাদাররা চারদিকে গুলি ছুড়তে থাকে। তখন মুক্তিযোদ্ধা কাজী জয়নাল ও ফিরোজের নেতৃত্বে ১৩ জনের একটি বাহিনী তাদের পেছন থেকে ধাওয়া করলে হানাদাররা ভোর ৫টায় ভোলার পুরান লাশ কাটা ঘরের পাশে রাখা একটি কার্গো লঞ্চে চড়ে ভোলা থেকে পালিয়ে যান। ওই সময় তাদের গতিরোধ করার জন্য খালে গাছ ফেলে ব্যারিকেডও দিয়েছিল মুক্তিকামী জনতা। পাক হানাদারদের বহনকারী ওই কার্গো লঞ্চটি মিত্রবাহিনীর বোমা বর্ষণের ফলে চাঁদপুরের মেঘনায় ডুবে ওই হানাদার বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যের মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, ১৯৭১ সালের ৬ মে বেলা ১২ টায় বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে পাকহানাদার বাহিনী ভোলার খেয়াঘাটে এসে নামে। এ সময় তৎকালীন ভোলা পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ শহরের একটি গ্রুপ পাক বাহিনীকে স্বাগত জানিয়ে শহরে নিয়ে আসে। খেয়াঘাট থেকে সবাই পায়ে হেঁটে ভোলার যুগিরঘোল ওয়াপদা কলোনীতে গিয়ে পৌঁছে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়তে না পড়তে শহরের প্রায় সব বাড়িঘর ফাঁকা হয়ে যায়। এদিকে পাকবাহিনী ট্রাক নিয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে থাকে। প্রতি রাতেই স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকবাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোকজন ধরে আনত। বিশেষ করে নারী ও যুবকরাই তাদের শিকারে পরিণত হত। এদেরকে নানান অত্যাচার নির্যাতন করে মেরে ওয়াপদার পূর্ব দিকের দেয়ালের বাইরে পুতে ফেলত। সন্ধ্যার পরে ট্রাকে করে লোকজনকে ভোলা খেয়াঘাট নিয়ে গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়।

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *