
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউসের নীতি নির্ধারণে এক ধরনের অনিশ্চয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানকে পুরোপুরি পর্যুদস্ত করার হুমকি দিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখারও আভাস দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ বন্ধ করা বা সংঘাত আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া—এই দুই বিপরীতমুখী চাপের মধ্যে ট্রাম্প এখন দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছেন।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক আক্রমণ পরিচালনা করেছে। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, তাদের নৌ ও বিমান বহরকে নিরাপদ রাখতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তবে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে তেহরান; ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কেশম দ্বীপের আকাশসীমার ভেতর একটি মার্কিন ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
পরিস্থিতি যখন চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগ চলমান রয়েছে। তেহরান থেকে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পৌঁছানো হয়েছে যা বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির ঝুঁকি কমছে না; মার্কিন বাহিনী যেকোনো বড় অভিযানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ইরান জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে কঠোর ও ব্যাপক সামরিক জবাব দেওয়া হবে। এই স্নায়ুযুদ্ধ ট্রাম্পের প্রশাসনকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপের পরিণতি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।