1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
দাবি না মানলে এক দফা অনিবার্য হবে: কুষ্টিয়ায় শফিকুর রহমান - আজকের কাগজ
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

দাবি না মানলে এক দফা অনিবার্য হবে: কুষ্টিয়ায় শফিকুর রহমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১:৫৭ এএম
শেয়ার করুন

সাত দফা দাবি মেনে না নিলে দেশের স্বার্থে এক দফার ডাক দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শনিবার রাতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শেষে আয়োজিত সমাপনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের কোনো দাবিই দলীয় নয়, বরং সব কটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সাত দফা মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না, কিন্তু না মানলে এক দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে। এই লড়াইয়ে জীবন গেলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার অঙ্গীকার করেন তিনি। মাত্র ৬ মিনিট তিনি বক্তব্য দেন। যদি সরকারের কাছে কোন আশানুরূপ কিছু না পায়, তবে যেকোনো মুহূর্তে ৭ দফা এক দফায় পরিণত হবে। উত্তরণ করার জন্য আপনাদের আরও কষ্ট করতে হবে। সারা দেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে।

রাত ১১টা ৩৩ মিনিটে শফিকুর রহমান মঞ্চে পৌঁছান এবং রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, জনগণের মূল্যবান ভোটে গঠিত সংসদ ও সংস্কার পরিষদের প্রত্যাশা থাকলেও সরকার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল করে নিয়েছে। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, অধিকার আদায়ের প্রয়োজনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত মার্চ করতে তারা প্রস্তুত কি না। এর আগে দীর্ঘ ৪২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১৯টি জেলা অতিক্রম করে এই লংমার্চ কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। যাত্রা শুরু হয়েছিল সকাল সাড়ে আটটায় ঢাকার বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে। হানিফ ফ্লাইওভার, মাওয়া মহাসড়ক, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে রাত ১১টার দিকে বহরটি কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে শেষ হয় এই কর্মসূচি। শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, ইতিহাসে যখনই জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য, অপমান করা হয়েছে, তখন সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। তারা সংসদে বসেই তার ফায়সালা করবে; কিন্তু কায়দা করে, ইঞ্জিরিয়ারিং করেই তারা দুই– তৃতীয়াংশের বেশি সিট দখল করে নিয়েছে। এ জন্য তারা এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইনি এই আট মাসের মধ্যে আন্দোলনে আসতে হবে। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে ১৯টি জেলা অতিক্রম করে।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার আট মাস না যেতেই জনগনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি ও লুটপাট চালাচ্ছে। সার ডিলারশিপের মতো ছোট পদ দিতেও লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার মতো অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান সরকারকেও তিনি জনস্বার্থে ব্যর্থ বলে সমালোচনা করেন। একেবারে সচিবালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত দলীয়করণ, সারের একেকটা ডিলারশিপ দিতে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।’।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে কোনো রাজ্যের অঙ্গরাজ্য হতে দেওয়া হবে না। তিনি জনতার কাছে জানতে চান, এক দফার ডাক এলে ঢাকার দিকে march করতে কারা প্রস্তুত আছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বাংলাদেশে আর কারও বাপ–দাদার তালুকদারি প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া আর হবে না ইনশা আল্লাহ।

সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনীতিবিদ কর্নেল অলি আহমদ সমাবেশে বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে সুশাসন নেই এবং দলীয়করণের কারণে মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের সরকারের সাথে বর্তমান সরকারের কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই এবং এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জনগণকে আরও কঠিন আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

লংমার্চের সমাপনী এই জনসভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হান্নান মাসউদসহ ১১-দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, স্থানীয় নেতা এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে একই জোট লংমার্চ করেছিল। খুলনা বিভাগের পর আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এই বিভাগের আরো খবর