
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৪০ লাখের বেশি ভোট গণনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। বুধবার সকালে দেশটির নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৭ আসন। এছাড়া আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। তবে সরকার গঠনের জন্য ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে ৬১ আসন প্রয়োজন। কোনো জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার গঠন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবারের জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ৫১ থেকে ৫২টি এবং বিরোধী জোট ৪৯ থেকে ৫১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। বুধবার সকালে কিছু জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩ থেকে ৫৭-এর মধ্যে দেখানো হয়। তাই ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব হিসাবকে সম্ভাব্য ফল হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেতে পারে। এ ছাড়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, শাস ৭টি, ইতামার বেন-গভিরের ওজমা ইয়েহুদিত ৭টি এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি ৬টি আসন পেতে পারে। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫৪টি। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের মধ্যে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১টি, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন বি’ইয়াখাদ ১১টি, ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি ৮টি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু ৭টি আসন পেতে পারে। এই চার দলের মোট আসনসংখ্যা ৪৭। আরব দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১৩টি এবং রা’আম ৬টি আসন পেতে পারে। লিকুদ পার্টির আসনসংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ এবং আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির আসনসংখ্যা ২১-এর কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছে।
ফলাফল অনুযায়ী আরব দলগুলো সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও, নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতা তাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া নেতানিয়াহু ও আইজেনকটকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। আইজেনকট স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে রাজি নন। একইসঙ্গে বিরোধী জোটের অন্য নেতারাও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে কোনো সরকারে যোগ দেওয়ার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। নির্বাচনের এমন ফলাফলে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যেখানে ৬১ আসনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াও পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার পথ খোলা থাকে, তবে এ ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থনের বিষয়ে বিরোধীদের অভ্যন্তরীণ আপত্তি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে জোটের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলের ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষকেই স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়নি। বুথফেরত জরিপের সঙ্গে অতীতে চূড়ান্ত ফলাফলের পার্থক্য দেখা গেছে। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এ হার ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ব্যবধান দূর করে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
তেল আবিবে নিজের দলের সদর দপ্তরে আইজেনকট বলেন, নেতানিয়াহুর সরকারকে সরিয়ে দেওয়া এবং নতুন নির্বাচন এড়ানো এখন সময়ের দাবি।
তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন জাতীয় নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারেন।
বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও নেতানিয়াহুর জোটের পরাজয় হয়েছে দাবি করে বলেন, জনগণ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা ছাড়ার বার্তা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, জনগণ নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান এটিকে সরকার পরিবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু ১৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
এখন রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।